বিএনপি ছাড়লেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল বাসেত, যোগ দিলেন জামায়াতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার
বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল বাসেত জামায়াতে যোগদান

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিএনপির একজন পরিচিত ও দীর্ঘদিনের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল বাসেতের দল পরিবর্তনের ঘটনা। বিএনপি ছেড়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন তিনি। গাজীপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সাবেক সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই রাজনীতিকের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে এক অনাড়ম্বর আয়োজনে রফিকুল বাসেতের জামায়াতে যোগদানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। দলীয় সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে গাজীপুর মহানগর জামায়াতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাত ধরেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

রফিকুল বাসেত নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে তার দল পরিবর্তনের বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি নিজেকে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল বাসেত’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে লেখেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির গাজীপুর মহানগর মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ আত্মসমালোচনা, উপলব্ধি ও গভীর চিন্তার পর তিনি ইসলামী আদর্শে জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার ভাষায়, ইসলামী আদর্শ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি গাজীপুর মহানগরের নায়েবে আমীর এবং গাজীপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হোসেন আলী, পাশাপাশি মহানগর সহকারী সেক্রেটারি আফজাল হোসেনের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন।

রফিকুল বাসেত তার পোস্টে আরও লেখেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে ইসলামী জীবনব্যবস্থা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সর্বোত্তম পথ। রাজনৈতিক জীবনে ঘটে যাওয়া ভুল-ত্রুটির জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চান, যেন আল্লাহ তাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল রাখেন। পোস্টের শেষাংশে তিনি আল্লাহর সাহায্য কামনা করে ‘আল্লাহুম্মা আমীন’ বলেন।

জামায়াতে যোগদানের পর প্রতিক্রিয়ায় রফিকুল বাসেত বলেন, জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমে দেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হবে—এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের নির্দেশিত পথে পরিচালিত একটি সংগঠন, যা তার অন্তরের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আত্মসমালোচনা ও চিন্তা–উপলব্ধির মধ্য দিয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আদর্শে জীবন পরিচালনার সিদ্ধান্ত তার ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও উপলব্ধির ফল। জামায়াতে যোগ দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহ যেন তাকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন মুজাহিদ হিসেবে কবুল করেন এবং ন্যায় ও সত্যের পথে দৃঢ় থাকার তৌফিক দেন।

রফিকুল বাসেতের রাজনৈতিক জীবনের শুরু বিএনপির হাত ধরেই। নিজ বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আমল থেকেই তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে দলটির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃত্বে থেকে সাংগঠনিক কাজ করেছেন। সেই দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা শেষে তিনি স্বেচ্ছায় বিএনপি ত্যাগ করে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিলেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দীর্ঘদিনের বিএনপি নেতার এই দল পরিবর্তন শুধু ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের একজন নেতার জামায়াতে যোগদান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ এটিকে আদর্শিক পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে সমসাময়িক রাজনৈতিক সমীকরণের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী সূত্র জানিয়েছে, রফিকুল বাসেতের মতো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধার যোগদান দলটির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। দলীয় নেতাদের মতে, ইসলামী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার এই সিদ্ধান্ত জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করবে।

অন্যদিকে বিএনপি মহলে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দলবদলের ঘটনা নতুন নয়, তবে মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের একজন কেন্দ্রীয় নেতার এমন সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সংবাদটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটি প্রকাশের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। পাঠকের আগ্রহ ও মানবিক দিক বিবেচনায় এনে ঘটনাপ্রবাহকে বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাতে পাঠক পুরো প্রেক্ষাপটটি স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত