গাজা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার
গাজা যুদ্ধবিরতি দ্বিতীয় ধাপ

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মধ্যপ্রাচ্যে গাজা উপত্যকার অশান্তি কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বুধবার গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, দ্বিতীয় ধাপে মনোযোগ দেওয়া হবে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গাজা উপত্যকার পুনর্গঠন কার্যক্রমের প্রতি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

উল্লেখ্য, গত তিন মাস ধরে গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। এর আগে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই সময় মধ্যস্থতার জন্য তুরস্ক, মিশর এবং কাতারের অবদানকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। উইটকফ বলেন, “সবার প্রচেষ্টায় আজ পর্যন্ত যে অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আমাদের আশা, হামাস চুক্তির অধীনে তার বাধ্যবাধকতাগুলো পূর্ণরূপে পালন করবে। বিশেষ করে, ইসরাইলি জিম্মিদের সব লাশ হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কোনো দেরি বা ব্যর্থতা গ্রাহ্য হবে না। ব্যর্থ হলে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।”

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে দুই বছরের মধ্যে গাজায় ইসরাইলী হামলায় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই দীর্ঘ সংঘাতের ফলে উপত্যকা ধ্বংসপ্রাপ্ত ও মানবিক সংকটের মুখে পড়েছে। অব্যাহত সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞের কারণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন এবং যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। প্রথম ধাপের অগ্রগতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, সীমিত সময়ের মধ্যে সমঝোতা সম্ভব হলেও পুরোপুরি স্থায়ী সমাধান এখনো দূর।

দ্বিতীয় ধাপে ফোকাস করা হবে গাজার নিরস্ত্রীকরণ। এটি মূলত জঙ্গি কার্যক্রমের সম্ভাবনা কমানো এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে। একইসঙ্গে টেকনোক্র্যাটিক শাসন ব্যবস্থা গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো মজবুত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এতে স্থানীয় প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পুনর্গঠন কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও ঘরবাড়ি পুনঃনির্মাণ, বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্য সেবার পুনরুদ্ধার, পাশাপাশি শিক্ষা ও শ্রম বাজার পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে, ফিলিস্তিনি দলগুলো চুক্তি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত তুরস্ক, মিশর ও কাতারের ভূমিকাকে উইটকফ বিশেষভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি জানান, তাদের মধ্যস্থতায় প্রথম ধাপের সময়ে বন্দি বিনিময় ও অন্যান্য প্রাথমিক সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং উপত্যকার সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও স্থিতিশীল জীবন ফিরিয়ে পায়।

ফিলিস্তিনি জনগণের জীবনে দীর্ঘ দিনের সংঘাত এবং দুর্ভিক্ষ, স্বাস্থ্যসেবা সংকট ও শিক্ষাব্যবস্থার ভেঙে পড়া সমস্যাগুলো দূর করার ক্ষেত্রেও দ্বিতীয় ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধবিরতি শুধুমাত্র অস্ত্রনিরসনের দিকে নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি, জনজীবন ও সামাজিক স্থিতিশীলতার পুনঃস্থাপনেও গুরুত্বারোপ করবে। এতে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে, শিশু ও নারীসহ সামাজিক দুর্বল শ্রেণির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের পুনর্বাসন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা।

এদিকে, ইসরাইলি সরকারও এই প্রক্রিয়ায় তাদের জিম্মিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং উপত্যকার নিরাপত্তা স্থিতিশীল রাখতে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আগ্রহী। মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের ত্রিপাক্ষিক প্রচেষ্টার লক্ষ্য হচ্ছে, দুই পক্ষের মধ্যে অস্থিরতা কমানো, নিরাপত্তা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরভাবে বজায় রাখা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন কেবল একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ নয়, এটি গাজা উপত্যকার দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফিলিস্তিনি জনগণের মানবিক পরিস্থিতি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে, এই পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে, এটি সফল করতে প্রয়োজন উভয় পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন এবং পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

উল্লেখযোগ্য, গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের ঘোষণা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে মার্কিন প্রশাসন সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দ্বন্দ্বের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য স্থিতিশীল ও সমন্বিত পথ তৈরি করতে চায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত