প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কক্সবাজারের উখিয়া ও রাজারকুল রেঞ্জের বন বিভাগ যৌথ অভিযানে গভীর রাতে একটি ডাম্পার জব্দ করেছে, যা অবৈধভাবে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহার হচ্ছিল। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রাজারকুল রেঞ্জের আপাররুজু বিটের থোয়াইংগাকাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় পাহাড় কাটা ও বন সম্পদের অবৈধ ব্যবহারের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। গোপন সূত্রের ভিত্তিতে কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়, যাতে পরিবেশ ও বন সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়া যায়।
অভিযানকালে পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত ডাম্পারটি জব্দ করা হলেও চালকটি কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। জব্দকৃত ডাম্পারের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মালিককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বন বিভাগ সূত্র জানায়, এই ধরনের যানবাহার প্রক্রিয়ার বাইরে থাকা মানেই অবৈধ কার্যক্রমের অংশ, যা দেশের বন ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানান, বনভূমি ও পাহাড় কাটা রোধে বন বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, “পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বনাঞ্চলের অবৈধ নিধন রোধ করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আশ্বাস দেন, জব্দকৃত ডাম্পারের মালিক শনাক্ত হওয়া মাত্র বন আইনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উখিয়া ও রাজারকুল এলাকায় পাহাড় কাটা ও অবৈধ খনির কাজ বহু বছর ধরে চললেও স্থানীয় জনসাধারণ এবং বন বিভাগ যৌথভাবে এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে। বন বিভাগের অভিযানে দেখা গেছে, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা শুধু বন ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাহাড়ি এলাকার ভূ-প্রকৃতি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যকে বিপন্ন করছে। পাহাড় কেটে তৈরি করা এলাকা দীর্ঘমেয়াদে ভূমিধস, পানি নিষ্কাশন সমস্যা এবং স্থানীয় কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে।
অভিযানকালে বন কর্মীরা বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং পাহাড়ের অবস্থার অবনতি প্রতিরোধে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেন। অভিযান পরিচালনায় গোপন সংবাদের গুরুত্ব বিশেষভাবে প্রকাশ পায়, যা বন সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযান অব্যাহত থাকায় অপরাধীরা দ্রুত সরাসরি শাস্তির মুখোমুখি হবে।
উখিয়া রেঞ্জের এই অভিযান আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, বন ও পাহাড় সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও সচেতন হতে হবে। বন বিভাগের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি প্রমাণিত উদ্যোগ, যা দেশের পরিবেশ ও বন সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করছে। বন ও পাহাড়ের অবৈধ ব্যবহার রোধ করতে এ ধরনের অভিযান ক্রমাগত প্রয়োজন।
উখিয়া বনাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কাটা ও অবৈধ খনির কারণে ভূ-প্রকৃতি ও স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বন সংরক্ষণে এই ধরনের অভিযান শুধুমাত্র আইন প্রয়োগের অংশ নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশ সুরক্ষার অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করে বন ও পাহাড় রক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত রাখা হবে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশ সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ ঘটনায় বন বিভাগ জোর দিয়েছে যে, পাহাড় ও বন সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে এবং বন আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হবে। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করছেন, বন বিভাগের এই ধরনের তৎপরতা দীর্ঘমেয়াদে উখিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম কমাবে এবং পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।