পাকিস্তান যুদ্ধবিমান রপ্তানি আলোচনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
পাকিস্তান যুদ্ধবিমান বিক্রি আলোচনা

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সম্প্রতি দেশটির যুদ্ধবিমান রপ্তানিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক আলোচনা প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পাকিস্তান বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করছে। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভিযান শেষে পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের যুদ্ধবিমানের রপ্তানি সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ত্বরান্বিত হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেহবাজ শরিফ বলেন, “গত বছরের যুদ্ধজয় আমাদের যুদ্ধবিমানের চাহিদা আরও বাড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা করছে।” এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রতিরক্ষা এবং কৌশলগত বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান এই মুহূর্তে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানকে আন্তর্জাতিক বাজারে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাচ্ছে, যা চীনের সহায়তায় যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে।

ডিফেন্স প্রডাকশন বিষয়ক মন্ত্রী রাজা হায়াত হারজ একটি সাক্ষাৎকারে বলেছে, “যুদ্ধবিমান রপ্তানির সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেহেতু জেএফ-১৭ এর উন্নয়নে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে, তাই যে কোনও চুক্তির জন্য চীনের অনুমতি প্রয়োজন হবে।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান আন্তর্জাতিক বাজারে জেএফ-১৭ থান্ডারের চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে কৌশলগত আলোচনায় ব্যস্ত। তবে মন্ত্রী কোন দেশের নাম প্রকাশ করেননি এবং বলেছেন, “এগুলো গোপন বিষয়। আমি কোনো দেশের নাম বলতে পারি না বা আমাদের আলোচনা কোন পর্যায়ে আছে তা প্রকাশ করতে পারি না।”

তবে রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, লিবিয়া, সুদান, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তান সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ কেবল তাদের অর্থনৈতিক মুনাফা নয়, বরং কৌশলগত প্রভাব বিস্তার এবং দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান রপ্তানি পাকিস্তানের জন্য একটি কৌশলগত কৌশল। এটি শুধু অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্ব বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে। বিশেষ করে, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি পাক-চীনা সম্পর্কের প্রভাবও প্রতিফলিত করবে।

অপর দিকে, সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের রপ্তানি চুক্তি দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। পাকিস্তানের বিমান বাহিনীর উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যুদ্ধবিমানের রপ্তানি অন্য দেশের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি বিনিময়কে উৎসাহিত করতে পারে। তবে, এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ম ও অস্ত্র রপ্তানি নীতি মেনে চলা জরুরি।

পাকিস্তানের জেএফ-১৭ থান্ডার বিমান বহুমুখী এবং এটি বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য। এর কারণে পাকিস্তান আশা করছে যে, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলো এই বিমান ক্রয় করতে আগ্রহী হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনাও কৌশলগত গুরুত্ব বহন করছে, কারণ এটি দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।

বিশ্লেষকরা আরও বলেন, পাকিস্তান চীনের সহযোগিতায় জেএফ-১৭ থান্ডারকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব হিসাবে তুলে ধরতে চাচ্ছে। এটি তাদের রপ্তানির পরিধি বৃদ্ধি করবে এবং অর্থনৈতিকভাবে দেশটিকে স্বাবলম্বী করতে সহায়তা করবে। এছাড়া, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এই আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান সামরিক ও কৌশলগত জোট গঠনেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে।

অভ্যন্তরীণ সামরিক ও কূটনৈতিক নীতিবিদরা মনে করছেন, যুদ্ধবিমানের রপ্তানি শুধু ব্যবসায়িক দিক নয়, এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতির অংশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা চিত্রে পাকিস্তানের অবস্থানকে শক্তিশালী করার জন্য এই ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পাশাপাশি, রপ্তানিতে চীনের অনুমতি থাকা এবং তাদের প্রযুক্তিগত সমর্থন পাওয়া, পাকিস্তানের চুক্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে। চীনের সহযোগিতা ব্যতীত আন্তর্জাতিক চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব নয়। তবে, পাকিস্তান সবকিছুর মাঝে চুক্তি সম্পন্ন করতে তাদের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ব্যবহার করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলিতে পাকিস্তান তার প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। স্থানীয় উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি, বিশেষ করে জেএফ-১৭ থান্ডারের মাধ্যমে, পাকিস্তান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে। বাংলাদেশসহ যেসব দেশ এই আলোচনায় রয়েছে, সেগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূখণ্ড এবং এই অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত