বিশ্বকাপ ২০২৬: ৫০ কোটির বেশি টিকিট আবেদন পেয়েছে ফিফা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
বিশ্বকাপ ২০২৬: ৫০ কোটির বেশি টিকিট আবেদন পেয়েছে ফিফা

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের জন্য বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ চমকপ্রদ। ফিফা বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, মাত্র এক মাসের বেশি সময়ের মধ্যে ৫০ কোটির বেশি টিকিটের আবেদন জমা পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ৪৮ দল অংশগ্রহণ করবে এবং ২১১টি ফিফা সদস্য দেশ ও অঞ্চলের সমর্থকরা লটারির মাধ্যমে টিকিট পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

ফুটবলপ্রেমীদের এই বিশাল আগ্রহের পেছনে শুধুই খেলা দেখার তৃষ্ণা নয়; এটি ফুটবলের প্রতি বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের প্রতিফলন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘অর্ধশত কোটি টিকিটের আবেদন কেবল চাহিদার পরিমাণ নয়, এটি ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ ও টুর্নামেন্টের প্রতি উৎসাহের অভূতপূর্ব প্রমাণ। তবে দুঃখজনকভাবে স্টেডিয়ামের ভেতরে সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

ফিফা জানিয়েছে, লটারির মাধ্যমে টিকিট বরাদ্দের জন্য আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হয়েছে গত মঙ্গলবার। যারা আবেদন করেছেন, তাদের ফলাফল ৫ ফেব্রুয়ারি জানা যাবে। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বাইরে সবচেয়ে বেশি চাহিদা এসেছে জার্মানি, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, আর্জেন্টিনা ও কলম্বিয়া থেকে। মায়ামির কলম্বিয়া-পর্তুগাল ম্যাচের জন্য সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ২৭ জুন। এছাড়া গুয়াদালাহারায় মেক্সিকো-দক্ষিণ কোরিয়া ম্যাচ এবং নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফাইনালও সমর্থকদের নজরে রয়েছে।

তবে টিকিটের দামের কারণে বিতর্কও তুলেছে ফিফা। সমর্থক সংগঠনগুলো টিকিটের দামকে ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘আকাশছোঁয়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ইউরোপের ফুটবল সমর্থকদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) জানিয়েছে, কাতার বিশ্বকাপ ২০২২-র তুলনায় এবারের টিকিটের দাম প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। সমালোচনার মুখে ফিফা ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৬০ ডলারের একটি কম মূল্যের নতুন শ্রেণি চালু করে, যা সমর্থকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

ফিফা জানাচ্ছে, টিকিটের এই চাহিদা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উৎসাহ ও আবেগকে প্রতিফলিত করছে। অনলাইনে ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টিকিটের জন্য জমা পড়া আবেদনগুলোর সংখ্যা বিশাল। লটারির মাধ্যমে যারা টিকিট পাবেন, তারা স্টেডিয়ামে সরাসরি বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাবেন, যা অনেকের জীবনের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

বিশ্বকাপের টিকিট আবেদনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সমর্থকদের মধ্যে ক্রীড়া ও ফুটবলের প্রতি আগ্রহ শুধু খেলাধুলার মাত্রা নয়; এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাবও বিস্তৃত করে। বিশেষ করে কলম্বিয়া-পর্তুগাল ম্যাচের জন্য টিকিট চাহিদা এতটাই বেশি যে এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবল উৎসাহের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ধরনের আগ্রহের পেছনে রয়েছে খেলোয়াড়দের দক্ষতা, প্রতিযোগিতার উত্তেজনা এবং বিশ্বকাপের গ্লোবাল জনপ্রিয়তা।

ফিফা জানিয়েছে, তারা চূড়ান্তভাবে টিকিট বরাদ্দের জন্য আবেদনকারীদের লটারির মাধ্যমে ফলাফল জানাবে। এই প্রক্রিয়া ন্যায্য ও স্বচ্ছ রাখার দায়িত্ব ফিফার উপর, যাতে বিশ্বের সব প্রান্তের ফুটবলপ্রেমীরা সমান সুযোগ পায়। টিকিট প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইন আবেদন, লটারির স্বচ্ছতা—সবই সমর্থকদের আস্থা বজায় রাখতে সহায়তা করছে।

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো উল্লেখ করেন, ‘এই চাহিদা শুধু সংখ্যাগত নয়; এটি ফুটবলকে একত্রিত করার শক্তির নিদর্শন। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ ফুটবলকে ভালোবাসে, এবং এই টিকিট আবেদনের সংখ্যা সেই ভালোবাসার প্রতিফলন। আমাদের জন্য দুঃখজনক বিষয়, স্টেডিয়ামের সকল সমর্থককে আমরা জায়গা দিতে পারছি না। তবে যারা পাবেন, তারা ইতিহাসের অংশ হবেন।’

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোও সমর্থকদের এই আগ্রহকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে স্টেডিয়ামগুলোর নিরাপত্তা, দর্শক ব্যবস্থাপনা, ট্রান্সপোর্টেশন এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। সমর্থকদের জন্য নিরাপদ ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ কেবল খেলাধুলার প্রতিযোগিতা নয়; এটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, যা বিভিন্ন দেশের মানুষকে একত্রিত করবে। টিকিটের চাহিদা এই মিলনের প্রমাণ। যদিও দাম বিতর্ক তৈরি করেছে, তবে আগ্রহের মাত্রা কমেনি। ফিফার এই চ্যালেঞ্জ হলো সব ফুটবলপ্রেমীকে ন্যায্যভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া।

ফলে দেখা যাচ্ছে, টিকিটের জন্য ৫০ কোটির বেশি আবেদন কেবল সংখ্যা নয়; এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আবেগ, উত্তেজনা এবং বিশ্বকাপের প্রতি অগাধ ভালোবাসার প্রতিফলন। ২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপের আগমনে ফুটবল ভক্তরা ইতোমধ্যেই উৎসবমুখর এবং আশা-উদ্দীপনায় রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত