রাঙ্গামাটিতে কাঠবোঝাই পিকআপ খাদে, নিহত ২

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
ঙ্গামাটিতে পিকআপ খাদে নিহত

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাঙ্গামাটিতে একটি কাঠবোঝাই মিনি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন এবং তাকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শহরের আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কের কামিলাছড়ি মগবান এলাকায় ঘটে।

নিহতরা হলেন মগবান ইউনিয়নের কামিলাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা সাদেক চাকমা (৩৮) এবং মিলন চাকমা (৫০)। আহত ব্যক্তি হলেন বিনয় চাকমা (৩৫)। রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনার সময় মিনি পিকআপটি পাহাড়ের উত্থান চড়তে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে গাড়িতে থাকা তিনজন শ্রমিক গাড়ির নিচে চাপা পড়ে যান। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওসি আরও বলেন, আহত শ্রমিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে দুর্ঘটনার সময় গাড়ির চালক ও হেলপার পালিয়ে যান। পুলিশ তাদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধানের জন্য সড়ক ও যানবাহন বিষয়ক বিশেষ তদন্ত শুরু হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শওকত আকবর খান জানিয়েছেন, রাতের সময় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুইজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলমান। মৃতদেহ জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাঠবোঝাই মিনি পিকআপগুলো প্রায়ই পাহাড়ি এলাকায় চলাচল করে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। যানবাহনের অতিরিক্ত লোড, দুর্গম রাস্তা ও পাহাড়ি ঢাল combined হলে এমন ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা দাবি করেছেন, পাহাড়ি অঞ্চলে যানবাহন চলাচলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহাড়ি এলাকায় শ্রমিক পরিবহন এবং ভারী পিকআপ ব্যবহার করলে নিয়মিত নিরাপত্তা পরিদর্শন অপরিহার্য। দুর্ঘটনার প্রাথমিক কারণ হিসেবে গাড়ির অতিরিক্ত লোড, খারাপ রাস্তা ও নিয়ন্ত্রণ হারানো উল্লেখ করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধক পদক্ষেপও জরুরি।

দুর্ঘটনার পর নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা শোকাহত। তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হোক এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এছাড়াও তারা স্থানীয় সড়ক ও যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।

রাঙ্গামাটির স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনা ও শ্রমিক নিরাপত্তা বিষয়ক নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম সড়কে এই ধরনের দুর্ঘটনা নতুন নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারী পিকআপ ও মিনি ট্রাকের অতিরিক্ত লোড, ত্রুটিপূর্ণ ব্রেক ব্যবস্থা এবং খারাপ রাস্তা মিলিত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের নিয়মিত পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই দুর্ঘটনা রাঙ্গামাটির সাধারণ জনগণ এবং শ্রমিকদের মধ্যে শোকের ছাপ ফেলেছে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও নিহতদের দাফনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশও সতর্ক হয়ে এলাকায় যানবাহন চলাচলের নিয়মিত তদারকি শুরু করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত