সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় ১০০ গাইড নিয়োগ, জোরদার হচ্ছে সেবা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫০ বার
সরকারি হজ ব্যবস্থাপনায় ১০০ গাইড নিয়োগ, জোরদার হচ্ছে সেবা

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমকে সামনে রেখে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের সেবা আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে শর্তসাপেক্ষে ১০০ জনকে হজ গাইড হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি অফিস আদেশ জারি করেছে। আদেশ অনুযায়ী, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা বিধিমালার শর্তাবলী প্রতিপালনের মাধ্যমে এই গাইডরা সৌদি আরবের মক্কা, মদিনা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি হজযাত্রীদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করবেন।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে আগ্রহী হাজীদের জন্য গাইডের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাষাগত সহায়তা, দিকনির্দেশনা, ধর্মীয় করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা—সব মিলিয়ে একজন হজ গাইড হাজীদের জন্য নির্ভরতার বড় জায়গা। সে বাস্তবতা মাথায় রেখেই এবার হজ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্ত হজ গাইডদের দায়িত্ব পালনের আগে হজ অফিস, ঢাকায় নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করতে হবে। এই অঙ্গীকারনামার মাধ্যমে গাইডরা বিধিমালার সব শর্ত মেনে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করবেন। পাশাপাশি দায়িত্ব পালনকালে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কর্তৃপক্ষ নেবে না এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দাবি করা যাবে না—এ বিষয়টিও আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত প্রত্যেক হজ গাইডকে বাধ্যতামূলকভাবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের হজের নিয়ম-কানুন, সৌদি আরবের প্রশাসনিক কাঠামো, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং হাজীদের সঙ্গে আচরণবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। একজন হজ গাইডকে গড়ে প্রায় ৪৬ জন হজযাত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে, তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে। হজে গমন থেকে শুরু করে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত পুরো সময়জুড়ে গাইডকে তার নির্ধারিত গ্রুপের হাজীদের সার্বক্ষণিক দেখভাল করতে হবে।

অফিস আদেশে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হজযাত্রীদের নামের তালিকা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট হজ গাইডকে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করতে হবে। এই গ্রুপের মাধ্যমে হাজীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান এবং জরুরি তথ্য আদান–প্রদান করতে হবে। এতে করে হজযাত্রীরা শুরু থেকেই একটি সংগঠিত কাঠামোর মধ্যে থাকবেন এবং বিভ্রান্তির সুযোগ কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হজ গাইডদের দায়িত্বের একটি বড় অংশ হলো প্রশাসনিক সহায়তা। অফিস আদেশ অনুযায়ী, হজ ভিসা প্রক্রিয়াকরণের জন্য বায়োমেট্রিক সম্পাদন, টিকা গ্রহণ এবং পাসপোর্ট সংগ্রহে হাজীদের সহায়তা করতে হবে গাইডদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচালক, হজ অফিস, আশকোনা, ঢাকায় ভিসার আবেদন দাখিল এবং বিমানের টিকিট সংগ্রহের ক্ষেত্রেও তারা সহযোগিতা করবেন। পাশাপাশি হজের আরকান ও আহকাম সম্পর্কে হাজীদের নিয়মিত তা’লিম বা ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।

সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর হজ গাইডদের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তারা সৌদি আরবে হজ প্রশাসনিক দল, কাউন্সেলর (হজ) এবং সহকারী মৌসুমি হজ অফিসারের তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করবেন। জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাও তাদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে করে যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।

দায়িত্ব ও আচরণবিধির ক্ষেত্রেও সরকার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, হজ গাইড কোনো হজযাত্রীর ব্যক্তিগত কাজে যুক্ত হতে পারবেন না এবং খাবার কেনা বা অন্য কোনো আর্থিক লেনদেনে জড়াতে পারবেন না। হাজীদের সঙ্গে সবসময় নম্র, ভদ্র ও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে। সরকার বা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানো যাবে না। এই নির্দেশনার মাধ্যমে হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

হজযাত্রীদের জন্য আয়োজিত প্রশিক্ষণে গ্রুপের সব হাজীর উপস্থিতি নিশ্চিত করাও হজ গাইডদের দায়িত্বের অংশ। কোনো হাজী হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একইভাবে কোনো হাজী অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে। এসব নির্দেশনা হাজীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়োগপ্রাপ্ত হজ গাইডদের জন্য নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরিধান এবং সফরের সময় দৃশ্যমানভাবে জাতীয় পতাকা বহন করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে একদিকে যেমন গাইডদের সহজে শনাক্ত করা যাবে, অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও স্পষ্ট হবে। এছাড়া হজযাত্রীদের নিজস্ব ব্যয়ে মক্কা ও মদিনায় জিয়ারার ব্যবস্থা করাও গাইডদের দায়িত্বের মধ্যে রাখা হয়েছে।

হজ পালন শেষে বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর প্রতিটি হজ গাইডকে হজ সংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম উল্লেখ করে একটি লিখিত প্রতিবেদন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই প্রতিবেদন ভবিষ্যৎ হজ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরিরত হজ গাইডদের সৌদি আরবে অবস্থানকাল কর্মকাল বা অন ডিউটি হিসেবে গণ্য হবে। তবে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নিজ নিজ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র দাখিল করতে হবে। প্রতিটি হজ গাইড তার গ্রুপের হজযাত্রীর মতো সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পাশাপাশি সৌদি আরবে অবস্থানকালে মোবাইল ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ নির্ধারিত অর্থও প্রদান করা হবে।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে ২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তাদের মতে, প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল হজ গাইড নিয়োগের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রীদের ভোগান্তি কমবে, সেবা হবে আরও মানবিক ও সংগঠিত। লাখো মানুষের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সফর নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে এই পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত