চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধাওয়া খেয়ে মেসে আশ্রয় নিলেন নেতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৭ বার
চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণঅধিকার পরিষদ নেতা

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারোঘরিয়ায় কলেজ শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে মেসে আশ্রয় নেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাকিব। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে ওই মেসে অবরুদ্ধ থাকার পর তাকে উদ্ধার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। স্থানীয়রা এই ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আব্দুর রাকিব দীর্ঘদিন ধরে বারোঘরিয়ায় কিশোর গ্যাং-এর নেতৃত্ব দেন। এলাকায় তার নেতৃত্বাধীন গ্যাং চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুই শিক্ষার্থীকে মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আব্দুর রাকিব কলেজ উড়িয়ে দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। রোববার সন্ধ্যায় নতুন বাজার এলাকায় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ধাওয়া চালায়। চাপের মুখে আব্দুর রাকিব সালাম মেসে আশ্রয় নেন এবং প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা ধরে ওই মেসে আটকা থাকেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ওমর ফারুক জানান, আব্দুর রাকিব ও তার গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে কলেজ শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের উপর চাঁদাবাজি, ধমকধামকি ও সহিংসতার অভিযোগে পরিচিত। কিছুদিন আগে থানায় গিয়ে ভুল স্বীকার করলেও তিনি ছাড়া পেয়ে ছিলেন। শিক্ষার্থীদের উপর এভাবে ছিনতাই ও হুমকি দেওয়ায় তারা তাকে ধাওয়া করে। উদ্ধারকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাকে নিরাপদে থানায় নিয়ে যায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ সংবাদকে জানান, শিক্ষার্থীদের ধাওয়া চলাকালীন আব্দুর রাকিব মেসে আশ্রয় নেন। অবরুদ্ধ অবস্থায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাকে উদ্ধার করে। তিনি জানান, বর্তমানে আব্দুর রাকিব থানায় অবস্থান করছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গণঅধিকার পরিষদের নেতা আব্দুর রাকিবের বিরুদ্ধে আগে থেকেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি ও তার সহযোগীরা বারোঘরিয়া বাজারে সাতটি ককটেল হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান। ওই হামলায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহ ছয় জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা ক্ষোভে তার মালিকানাধীন রেস্তোরাঁ ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করে।

এই ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা ও নিরাপদ এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে ধাওয়া চালিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চলছিল এবং তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারছিলেন না।

স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, আব্দুর রাকিব ও তার গ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হুমকি দিচ্ছিল। এই হুমকি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ও অসন্তোষ সৃষ্টি করেছিল। শিক্ষার্থীরা একত্র হয়ে তার ধাওয়া চালিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়।

উদ্ধারের পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে, আব্দুর রাকিবের বিরুদ্ধে সকল প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা এবারও নিরপেক্ষভাবে আইনের অধীনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আশা করছেন।

স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা, নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য একটি সংকেত। তারা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যুবসমাজকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে নিরাপদ রাখা অত্যন্ত জরুরি। স্থানীয় জনগণও আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশাসন ভবিষ্যতে এই ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় স্কুল, কলেজ এবং ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা সচেতন ও একযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দাবিতে এগিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত