প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
চট্টগ্রাম নগরীর বাসিন্দাদের জন্য আবারও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর এসেছে। জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ এবং উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে আগামীকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় টানা সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বিদ্যুৎ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং বন্দর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিডারের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি লাইনের সক্ষমতা বাড়ানো, পুরোনো যন্ত্রাংশ পরিবর্তন এবং ভবিষ্যতে লোডশেডিং ও আকস্মিক বিভ্রাট কমানোর লক্ষ্যে এই কাজগুলো করা হচ্ছে। সাময়িক এই বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে এটি নগরবাসীর জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরীর বেশ কয়েকটি ঘনবসতিপূর্ণ ও বাণিজ্যিক এলাকা এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আওতায় পড়বে। এর মধ্যে রয়েছে গাউসিয়া আবাসিক এলাকা ও গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকা, যেখানে সকাল থেকেই বিদ্যুৎ না থাকায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। হামজারবাগ লেইন, পশ্চিম শহীদ নগর ও উত্তর গেইট এলাকার বাসিন্দারাও এই সময় বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন না। দেলওয়ার কোম্পানির বাড়ি, ফকির টিলা ও মির্জাপাড়া এলাকার পাশাপাশি মুরাদনগর ও হক ফুড গলিতেও নির্ধারিত সময়জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, ভান্ডারী গলি, বড় বাড়ি গলি, এশিয়া ফ্যান ফ্যাক্টরি, আমিন জুট মিলস ও আমিন টেক্সটাইল এলাকার শিল্প ও কারখানাগুলোও এই বিভ্রাটের প্রভাব অনুভব করবে। বিবিরহাট কাঁচাবাজার ও বশর মার্কেট এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফরেস্ট গেট থেকে মুরাদপুর মোড় পর্যন্ত এলাকা, খ্রিস্টান কবরস্থান, সামারহিল ও মৌমিনবাগ এলাকাও বিদ্যুৎহীন থাকবে।
হামজারবাগ ও ফুলেশ্বরী আবাসিক এলাকার পাশাপাশি তাহেরাবাদ এবং আতুরার ডিপু পিয়াজু গলির বাসিন্দারাও এই সাত ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আওতায় পড়বেন। রৌফাবাদ সমাজসেবা এলাকা থেকে ফয়েজ টাওয়ার পর্যন্ত অংশ, সংগীত সিনেমা রোড ও সংগীত আবাসিক এলাকা, জাংগালপাড়া ও ওয়েলফুড গলিতেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সামাদপুর, মীরপাড়া ও হাজিপাড়া গার্মেন্টস এলাকাতেও এই সময় বিদ্যুৎ থাকবে না।
এ ছাড়া সামারহিল ও খ্রিস্টান কবরস্থান এলাকা, হাটহাজারী রোড, খন্দকিয়া বাজার ও খন্দকিয়া টেম্পুস্ট্যান্ড, মাজার গেইট ও ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া ও কুলগাঁও মাজার গেইট থেকে সাদ মুছা গার্মেন্টস পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকাও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকবে। নতুন পাড়া, কাঠাল বাগান রোড, তুফানী রোড ও চিকনদণ্ডী এলাকা, পূর্ব কুলগাঁও ও কুলগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুছড়া ও বালুছড়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদেরও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড আরও জানায়, কাশেম ভবন, কুয়াইশ কলেজ, পশ্চিম কুয়াইশ, ষোল পোল, ভরা পুকুর, হামিদ শরিফ রোড, নজুমিয়া হাট, নেয়ামত আলী রোড ও বড় বাড়ি এলাকাও এই বিভ্রাটের তালিকায় রয়েছে। পূর্ব শিকারপুর, রশিদ বাড়ি, মদুনাঘাট বাজার, দক্ষিণ মাদ্রাসা ও মধ্যম মাদ্রাসা এলাকা, গ্রিন কলোনি রোড, চিনারপোল, রহমানিয়া সেতু এবং ব্রাহ্মণহাটের আশপাশের এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
চট্টগ্রাম নগরী দেশের অন্যতম বাণিজ্যিক ও শিল্পনগরী হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে এর প্রভাব নানামুখী হয়। গার্মেন্টস, ছোট-বড় শিল্পকারখানা, দোকানপাট ও অফিস আদালতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতে পানির সংকট ও গৃহস্থালি কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। বিশেষ করে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা এবং অনলাইনভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন।
তবে বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, এই কাজগুলো সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট ফিডারগুলোর সক্ষমতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের ঝুঁকি কমবে। পুরোনো লাইনের পরিবর্তে উন্নত মানের যন্ত্রাংশ স্থাপন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ আরও স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্ন করা সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড নগরবাসীর প্রতি সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। জরুরি প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিস বা কল সেন্টারে যোগাযোগ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নগরবাসীর অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে আগাম ঘোষণা দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার ফলে তারা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারছেন, যা আকস্মিক বিভ্রাটের চেয়ে অনেক ভালো। যদিও সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কষ্ট হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদে যদি বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও নির্ভরযোগ্য হয়, তাহলে এই সাময়িক অসুবিধা মেনে নেওয়া যায় বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় সাত ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাট নগরবাসীর জন্য এক ধরনের সতর্ক বার্তা। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, এই মেরামত ও উন্নয়নমূলক কাজের সুফল খুব শিগগিরই সবাই অনুভব করবেন এবং ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।