প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাসনিয়া ফারিণের নাম জড়িয়ে কিছু ছবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রীর নামে ছড়ানো ছবিগুলো নিয়ে তীব্র আলোচনার পাশাপাশি সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তিও। তবে এসব ভাইরাল ছবি প্রকৃতপক্ষে তাসনিয়া ফারিণের নয়, বরং ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে—এমনটাই উঠে এসেছে ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে।
অনুসন্ধান অনুসারে, ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে যে নারীর মুখ রয়েছে, তা ফারিণের মুখমণ্ডলের সঙ্গে মেলালেও মূল দেহ ও প্রেক্ষাপট মিলছে না। এগুলোর বেশ কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মূলত একটি ভিন্ন নারীর ছবি ব্যবহার করে তার মুখমণ্ডলের ওপর কৃত্রিমভাবে ফারিণের মুখ বসিয়ে এসব ভুয়া ছবি তৈরি করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়েছে ডিজিটাল ছবি সম্পাদনা প্রযুক্তি, যা ‘ডিপফেক’ বা ‘ফেস-সোয়াপ’ নামে পরিচিত।
ফারিণের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে রিউমর স্ক্যানার এসব ভাইরাল ছবির কোনো মিল খুঁজে পায়নি। অভিনেত্রী নিজেও এসব ছবি কোথাও পোস্ট করেননি কিংবা এসবের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করেননি।
একই অনুসন্ধানে দেখা যায়, “Tania Tithi” নামক একটি ফেসবুক প্রোফাইলে ১৪ জুন তারিখে প্রকাশিত কিছু ছবির সঙ্গে ভাইরাল ছবিগুলোর বেশ কিছু মিল রয়েছে। পোশাক, দেহভঙ্গি ও পরিবেশ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভাইরাল ছবিগুলোর মূল ছবি সেখান থেকেই নেওয়া। পার্থক্য কেবল মুখমণ্ডলে। মূল ছবিতে যে নারীর মুখ রয়েছে, তা কৌশলে মুছে তার স্থলে তাসনিয়া ফারিণের মুখ বসানো হয়েছে। একই ছবিগুলো “Tania Tithi” নামক একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টেও পাওয়া গেছে, যার তারিখ ও প্রেক্ষাপটও একই।
ফলে স্পষ্ট হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো এইসব ছবি তাসনিয়া ফারিণের নামে প্রচার করলেও সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবিকভাবে তার কোনো সম্পর্ক নেই। বরং কৃত্রিমভাবে সম্পাদিত এই ছবিগুলো মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর একটি প্রচেষ্টা মাত্র।
এ ধরনের ঘটনা শুধু একজন শিল্পী নয়, বরং সমাজে ভুল বার্তা ও অনৈতিক প্রচারণার শিকার করে নির্দোষ মানুষদের। ভুয়া ছবি বা তথ্য ছড়ানো আইনত অপরাধ এবং এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আওতাতেও পড়ে। সংশ্লিষ্ট সাইবার অপরাধ তদন্ত সংস্থাগুলোর উচিত এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
তাসনিয়া ফারিণ এর আগেও তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। এবারও তার নাম ব্যবহার করে ছড়ানো এই ছবিগুলো তাকে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা বলেই মনে করছেন অনেকে।
সচেতন নাগরিক হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া প্রতিটি তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। একইসঙ্গে গণমাধ্যমেরও উচিত দায়িত্বশীলভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা, যাতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মান নষ্ট না হয়।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো, প্রযুক্তির অপব্যবহার কীভাবে একটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত পরিসরকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে এবং সচেতনতা ছাড়া সেই হুমকি থেকে রক্ষা পাওয়া কঠিন। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিকতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এখন সময়ের দাবি।