বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা, মিলন ছিটকে জেমিসনের প্রত্যাবর্তন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪২ বার
বিশ্বকাপের আগে বড় ধাক্কা, মিলন ছিটকে জেমিসনের প্রত্যাবর্তন

প্রকাশ: ২৩  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে নিউজিল্যান্ড শিবিরে নেমে এলো বড় ধরনের দুঃসংবাদ। বাম হ্যামস্ট্রিংয়ে গুরুতর চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ পেসার অ্যাডাম মিলনে। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে তার এই ছিটকে যাওয়া ব্ল্যাকক্যাপসদের বোলিং আক্রমণে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মিলনের পরিবর্তে নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অলরাউন্ডার পেসার কাইল জেমিসনকে, যিনি আগে ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে মনোনীত ছিলেন।

রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট এসএ২০ লিগে বোলিং করার সময় চোট পান অ্যাডাম মিলনে। ম্যাচ চলাকালীনই তার বাম পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তি দেখা দেয় এবং তাকে দ্রুত মাঠ ছাড়তে হয়। পরবর্তীতে করা মেডিকেল স্ক্যানে তার হ্যামস্ট্রিং ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড জানায়, এই ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে দীর্ঘ পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়, ফলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণ আর সম্ভব নয়।

বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে মিলনের অনুপস্থিতি যে নিউজিল্যান্ড দলের জন্য কতটা বড় ক্ষতি, তা সহজেই অনুমেয়। গত কয়েক বছর ধরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি ছিলেন ব্ল্যাকক্যাপস পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তার গতি, সুইং এবং ডেথ ওভারে কার্যকর বোলিং নিউজিল্যান্ডকে বহু ম্যাচে সাফল্য এনে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও তিনি ভালো ফর্মে ছিলেন এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেকে প্রস্তুত করতে কঠোর পরিশ্রম করছিলেন।

নিউজিল্যান্ড দলের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার মিলনের চোটে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই অ্যাডামের জন্য খুবই হতাশ। সে টুর্নামেন্টের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিল এবং সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে দারুণ ফর্মে ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন সময়ে এই চোট তার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে দিল। আমরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করি এবং আশা করি সে আগের চেয়ে আরও শক্তভাবে ফিরে আসবে।’ কোচের এই বক্তব্যে স্পষ্ট, দল শুধু একজন বোলার নয়, একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধাকেও হারাল।

মিলনের পরিবর্তে দলে সুযোগ পাওয়া কাইল জেমিসনের জন্য এটি একদিকে যেমন বড় সুযোগ, তেমনি বড় দায়িত্বও। বর্তমানে তিনি ব্ল্যাকক্যাপসের সাদা বলের ভারত সফরের দলে রয়েছেন এবং দলের সঙ্গে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে তাকে বিশ্বকাপের জন্য ট্রাভেলিং রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছিল। মিলনের ছিটকে যাওয়ার ফলে এখন তিনি মূল স্কোয়াডে জায়গা পেলেন। উচ্চতা, অতিরিক্ত বাউন্স এবং ব্যাট হাতেও কার্যকর হওয়ার ক্ষমতার কারণে জেমিসন নিউজিল্যান্ড দলের জন্য ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

কাইল জেমিসনকে নিয়ে আশাবাদী কোচ রব ওয়াল্টার বলেন, ‘কাইল ইতিমধ্যেই আমাদের সঙ্গে ভারতে রয়েছে, যা দলের জন্য বড় সুবিধা। সে আমাদের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং তার অভিজ্ঞতা বিশ্বকাপে খুবই কাজে আসবে।’ তিনি আরও জানান, জেমিসনের ফিটনেস ও ম্যাচ রিদম সন্তোষজনক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে দ্রুতই দলে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড আরও জানিয়েছে, বিশ্বকাপ স্কোয়াডের জন্য ১৬তম ট্রাভেলিং রিজার্ভ খেলোয়াড়ের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে ইনজুরির ঝুঁকি মাথায় রেখে অতিরিক্ত প্রস্তুতি রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দল ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত রয়েছে।

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়েই মাঠে নামতে চেয়েছিল। স্পিন ও পেসের ভারসাম্য, অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল গঠন করেছিল তারা। তবে বিশ্বকাপের ঠিক আগে মিলনের মতো একজন অভিজ্ঞ পেসারের ছিটকে যাওয়া সেই পরিকল্পনায় বড় ফাঁক তৈরি করেছে। বিশেষ করে উপমহাদেশের কন্ডিশনে যেখানে পেসারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে তার অনুপস্থিতি দলকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, জেমিসন মিলনের জায়গা পূরণ করতে পারলেও দুজনের বোলিং স্টাইল ভিন্ন। মিলন মূলত গতি ও সুইং নির্ভর বোলার, যেখানে জেমিসনের শক্তি হলো উচ্চতা থেকে আসা বাউন্স ও ব্যাটসম্যানকে চাপে রাখা। ফলে নিউজিল্যান্ডের বোলিং পরিকল্পনাতেও কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, জেমিসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রাখেন এবং চাপ সামলানোর ক্ষমতাও তার রয়েছে।

নিউজিল্যান্ড দলের ভক্তদের মাঝেও এই খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একদিকে মিলনের চোটে হতাশা, অন্যদিকে জেমিসনের দলে ফেরায় কিছুটা আশার আলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মিলনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং জেমিসনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিশ্বকাপের আগে এমন পরিবর্তন দলকে মানসিকভাবে কতটা প্রভাবিত করবে, সেটিও এখন দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অ্যাডাম মিলনের ছিটকে যাওয়া নিউজিল্যান্ড শিবিরে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। তবে কাইল জেমিসনের অন্তর্ভুক্তি সেই ক্ষতি কিছুটা হলেও সামাল দিতে পারে বলে আশা করছেন কোচিং স্টাফ ও সমর্থকেরা। বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্ল্যাকক্যাপসরা এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য বড় কৌতূহলের বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত