বাংলাদেশের বিপক্ষে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত, বাড়ছে বিতর্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৩ বার
বাংলাদেশের বিপক্ষে আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত, বাড়ছে বিতর্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান ও অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাম্প্রতিক একাধিক সিদ্ধান্ত। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের জেরে বাংলাদেশ দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার পর এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এর ফলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাভার করতে ভারত কিংবা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে মাঠ পর্যায়ের সংবাদ পরিবেশনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন বাংলাদেশের সব ক্রীড়া সাংবাদিক।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) আইসিসির পক্ষ থেকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় বাংলাদেশের সাংবাদিকদের জানিয়ে দেওয়া হয়, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য তাদের কোনো মিডিয়া অ্যাক্রিডিটেশন দেওয়া হচ্ছে না। এর আগে বিশ্বকাপের সংবাদ কাভার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আইসিসির কাছে নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আবেদনের বিপরীতে কোনো ইতিবাচক সাড়া না দিয়ে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত জানায় আইসিসি।

আইসিসির দেওয়া ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, যেহেতু বাংলাদেশ দল এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করছে না, সেহেতু বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বকাপ কাভারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আইসিসির এই যুক্তি ঘিরে ক্রীড়া সাংবাদিক মহলসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে—কোনো দেশের দল টুর্নামেন্টে না থাকলে সে দেশের সাংবাদিকদের সংবাদ পরিবেশন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত কতটা ন্যায়সংগত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর কেবল অংশগ্রহণকারী দলগুলোর জন্যই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী দর্শক ও গণমাধ্যমের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ। সেখানে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের জাতীয়তা বা দলের অংশগ্রহণকে শর্ত হিসেবে আরোপ করা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন অনেকেই। বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের ঘটনা সেই বিতর্ককেই আরও ঘনীভূত করেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর আগে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, ভারত কেবল বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, বরং দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্যও অনিরাপদ হতে পারে। তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই আইসিসির এমন সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—নিরাপত্তা ইস্যুকে পাশ কাটিয়ে কি প্রতিশোধমূলক অবস্থান নিচ্ছে আইসিসি?

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রুপ ‘সি’-তে থাকা বাংলাদেশ দলকে বাদ দিয়ে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের একাংশের কাছে বিস্ময়কর বলে বিবেচিত হয়েছে। কারণ, খেলাধুলার মাঠের বাইরের সিদ্ধান্ত মাঠের প্রতিযোগিতায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে—এমন অভিযোগ নতুন নয়, তবে বাংলাদেশ ইস্যুতে সেটি যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এদিকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ যদি নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশ্বকাপে অংশ না নেয় এবং এর জেরে বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হয়, তবে বিষয়টি তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আগামী শুক্রবার কিংবা সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে পিসিবি। তবে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান যদি বাংলাদেশের পথ অনুসরণ করে বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আইসিসির কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে দেশটি, যা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিক সমাজও এই সিদ্ধান্তে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, একজন সাংবাদিক কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতিনিধি নন; তিনি মূলত খেলার প্রতিনিধি। মাঠের ভেতর-বাইরের ঘটনা, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া, আয়োজকদের প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরাই একজন ক্রীড়া সাংবাদিকের দায়িত্ব। সেখানে দল না থাকার অজুহাতে সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া স্বাধীন সংবাদ পরিবেশনের পরিপন্থী বলেই মনে করছেন তারা।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, যৌথভাবে ভারত ও শ্রীলঙ্কায়। দীর্ঘ এক মাসের এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ৮ মার্চ। বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের চোখ থাকবে এই আসরের দিকে। কিন্তু বাংলাদেশের দল ও সাংবাদিকদের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপের কাভারেজ ও দর্শক আগ্রহে যে একটি বড় শূন্যতা তৈরি করবে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া এবং সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল—আইসিসির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভবিষ্যতে এসব সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু বাংলাদেশের ওপর নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যবস্থাপনাতেও দীর্ঘমেয়াদি ছাপ ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত