গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় গেটে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪০ বার
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় গেটে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আকস্মিক এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিকট শব্দে মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। রাতের নীরব পরিবেশ ভেঙে বিস্ফোরণের শব্দ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে অনেক শিক্ষার্থী নিরাপত্তার আশঙ্কায় হল ও আবাসিক এলাকার ভেতরে আশ্রয় নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, রাত পৌনে ১০টার কিছু আগে দুইটি মোটরসাইকেলে করে চারজন দুর্বৃত্ত দ্রুত গতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এসে পৌঁছায়। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই পরপর ককটেল নিক্ষেপ করে। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং চারপাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পরপরই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে চড়ে দ্রুত শহরের দিকে পালিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি ঘটে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে, ফলে প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের মুখমণ্ডল বা পরিচয় স্পষ্টভাবে শনাক্ত করতে পারেননি।

বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলের ভেতর থেকেও তা শোনা যায়। অনেক শিক্ষার্থী প্রথমে বুঝতে পারেননি এটি কী ধরনের বিস্ফোরণ। কেউ কেউ একে গ্যাস সিলিন্ডার বা বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ ভেবেছিলেন। পরে যখন জানা যায় এটি ককটেল বিস্ফোরণ, তখন স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীব। তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত হন। একই সঙ্গে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট এলাকা ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আরিফুজ্জামান রাজীব সাংবাদিকদের জানান, এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি, যা স্বস্তির বিষয়। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

রাত ১২টা ৫ মিনিটে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা দ্রুততম সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বিস্ফোরণে কোনো ধরনের হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে বিকট শব্দে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল গেট এলাকা ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আশপাশে থাকা মানুষজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

পুলিশের ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। হাতে তৈরি ককটেল নিক্ষেপকারী দুষ্কৃতিকারীদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আতঙ্ক প্রকাশ করলেও অনেকে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের তৎপরতার প্রশংসা করেছেন। এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় একটি শিক্ষার নিরাপদ স্থান হওয়া উচিত। এখানে এ ধরনের সহিংস ঘটনা আমাদের মানসিকভাবে ভীষণভাবে নাড়িয়ে দেয়। আমরা চাই, দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করার সাহস না পায়।

আরেক শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার সময়সূচি ও নিয়মিত ক্লাসের মধ্যেই এমন ঘটনা শিক্ষার্থীদের মনোযোগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শুধু ঘটনার তদন্তই নয়, বরং ক্যাম্পাসজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। রাতে টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা যাচাই এবং প্রয়োজন হলে নতুন ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যেকোনো সন্দেহজনক ঘটনা সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

গোপালগঞ্জের মতো একটি শান্তিপূর্ণ জেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কী উদ্দেশ্যে এবং কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা হতে পারে, আবার কেউ একে নিছক ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা বলে মনে করছেন। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বা এর আশপাশে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু তাৎক্ষণিক আতঙ্কই সৃষ্টি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই দ্রুত তদন্ত, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।

সব মিলিয়ে, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব সামনে এনে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন সবার নজর তদন্তের অগ্রগতি ও দোষীদের শনাক্ত করার দিকে। শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে আবারও নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত