ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৭ বার
ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কক্সবাজারের চকরিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের কথা বলা মূলত ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের সঙ্গে ধোঁকাবাজির শামিল। তিনি বলেন, জনগণের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে যারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে চায়, তারা গণতন্ত্র ও নৈতিক রাজনীতির মৌলিক আদর্শ থেকেই বিচ্যুত। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে চকরিয়ার শাহারবিল ইউনিয়নে তাঁর সপ্তম দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের একটি প্রক্রিয়া নয়; এটি জনগণের হারানো অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। তাঁর ভাষায়, “এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই জনগণ রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিকানা ফিরে পাবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণই হবে সরকারের প্রধান চালিকাশক্তি।” তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি, ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে সেই অবস্থা বদলাতে জনগণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্বাগত জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিযোগিতা হবে নীতির, কর্মসূচির ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার। কিন্তু ধর্মের দোহাই দিয়ে বা জান্নাতের প্রলোভন দেখিয়ে ভোট চাওয়া রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি বলেন, “যদি কোনো দলের কাছে দেশের জন্য সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকে, তাহলে তারা তা জনগণের সামনে তুলে ধরুক। জনগণ বিচার করবে কে যোগ্য, কে অযোগ্য।” তাঁর মতে, ভোটাররা এখন সচেতন এবং আবেগী স্লোগানের বাইরে গিয়ে বাস্তব উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

শাহারবিল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে মানুষ ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দেন এবং প্রার্থীকে স্বাগত জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই জনসমর্থনই প্রমাণ করে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের ভূমিধস বিজয় অনিবার্য। তিনি দাবি করেন, জনগণ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিএনপিকে বেছে নিতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির কেন্দ্রে রয়েছে শহিদদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ বিনির্মাণ। “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়া, যেখানে কোনো মাকে আর সন্তান হারানোর বেদনা সইতে হবে না,” বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে বিএনপি একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করবে, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।

দেশ নিয়ে বিএনপির ভিশন ও পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া বিএনপির অগ্রাধিকার। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নির্বাচনের মাধ্যমে একটি বৈধ ও জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

সালাহউদ্দিন আহমদ ধর্মকে ব্যক্তিগত বিশ্বাস হিসেবে সম্মান করার কথা উল্লেখ করে বলেন, ধর্ম মানুষের নৈতিকতা ও মানবিকতাকে সমৃদ্ধ করে, কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করা সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, “ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে যারা ভোট চাইছে, তারা আসলে মানুষের বিশ্বাসকে অপব্যবহার করছে।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত অনেকেই সমর্থনসূচক সাড়া দেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় বক্তৃতার পাশাপাশি সালাহউদ্দিন আহমদ ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন এবং সমাধানের আশ্বাস দেন। স্থানীয় মানুষ জানান, দীর্ঘদিন পর তারা এমন একজন প্রার্থীকে কাছে পেয়েছেন যিনি তাদের কথা শুনছেন এবং যুক্তি দিয়ে রাজনীতির কথা বলছেন। অনেকেই বলেন, ধর্মীয় আবেগ নয়, বরং বাস্তব উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অধিকারই তাদের কাছে মুখ্য।

এদিনের কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরীসহ দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নেতারা ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলেই একটি গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ধর্মীয় অনুভূতি ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার সীমারেখা টেনে তিনি ভোটারদের যুক্তিবোধ ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এটি নির্বাচনী রাজনীতিতে নীতি ও আদর্শের আলোচনাকে সামনে আনার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে চকরিয়ার শাহারবিল ইউনিয়নের নির্বাচনী প্রচারণা কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির শক্ত অবস্থান ও জনসমর্থনের চিত্র তুলে ধরেছে। সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, এই নির্বাচনে বিএনপি ধর্মীয় প্রলোভন নয়, বরং গণতন্ত্র, অধিকার ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের দ্বারস্থ হতে চায়। ভোটের মাঠ যত উত্তপ্তই হোক, শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই যে নির্ধারক—এ কথাই তিনি বারবার তুলে ধরেন তাঁর বক্তব্যে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত