জুলাই সনদ জনগণ ও রাজনৈতিক দলের ঐতিহাসিক চুক্তি: আলী রীয়াজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬১ বার
জুলাই সনদ জনগণ ও রাজনৈতিক দলের ঐতিহাসিক চুক্তি: আলী রীয়াজ

প্রকাশ: ২৮  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্মাণে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, এই সনদ কোনো একক রাজনৈতিক শক্তির তৈরি দলিল নয়; বরং এটি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি সম্মিলিত ও নৈতিক চুক্তি, যা দীর্ঘ আলোচনা, ত্যাগ ও শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত।

বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধ: মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতার আলোকে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই) আয়োজিত এই আলোচনায় দেশের চলমান রাজনৈতিক রূপান্তর, গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন আলী রীয়াজ।

তিনি জানান, জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নে দেশের ৩০টি রাজনৈতিক দল টানা নয় মাস নিরবচ্ছিন্ন আলোচনায় অংশ নেয়। মতপার্থক্য, দ্বিমত ও বিতর্কের মধ্য দিয়েও তারা একটি অভিন্ন লক্ষ্যকে সামনে রেখে এজেন্ডাগুলো চূড়ান্ত করেছে। এই সনদ বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়; রাজনৈতিক দলগুলোকেও সমানভাবে এর দায় বহন করতে হবে। এটি কোনোভাবেই চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং সম্মিলিত রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ অগণিত শহীদের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের প্রতিফলন। যারা গণ–অভ্যুত্থানে জীবন দিয়েছেন, তাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা। এই সনদ সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি কাঠামো।

গণ–অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসে এই আন্দোলন একটি সুস্পষ্ট রায় দিয়েছে। দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং যারা অন্যায় করেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা বা জমিদারিতন্ত্র কায়েম হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহির প্রশ্নে আলী রীয়াজ বলেন, একটি টেকসই গণতন্ত্রের জন্য রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারসাম্য জরুরি। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আর সেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, যারা ন্যায়বিচার, কাঠামোগত সংস্কার এবং একটি নতুন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চান, তাদের অবশ্যই নির্বাচনকে কেন্দ্রীয় জায়গায় রাখতে হবে। গণভোট, নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার—এই তিনটি বিষয়েই চূড়ান্ত ক্ষমতা জনগণের হাতে ন্যস্ত থাকা উচিত।

আলী রীয়াজ বলেন, দেশের ছাত্র-জনতা তাদের জীবনের বিনিময়ে দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকল থেকে মুক্তি পেয়েছে। এখন বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই রূপান্তরকে সফল করতে হলে গণতন্ত্রকে আরও শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হবে, যাতে প্রতিটি নাগরিক নিজেকে এই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক বলে মনে করতে পারে।

আসন্ন গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে স্বাধীন ও মুক্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভবিষ্যৎ পথ বেছে নেবে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে রায় দিয়ে জনগণকে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়, বরং একটি সমৃদ্ধশালী, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে সঙ্গে নিয়ে ভবিষ্যতে সুবিচারের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই জুলাই সনদের মূল লক্ষ্য।

গোলটেবিল আলোচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ূন কবির। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও সহিংসতা প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা এখন সময়ের দাবি। গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের সম্মানিত ফেলো ও সাবেক রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান। জরিপ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন চৌধুরী সামিউল হক। আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। তারা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, এই সংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য, আন্তর্জাতিক ও দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা, দায়বদ্ধতা ও পেশাদার সাংবাদিকতার মান বজায় রেখে উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত