কোপেনহেগেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় বার্সেলোনা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার
কোপেনহেগেনকে উড়িয়ে শেষ ষোলোয় বার্সেলোনা

প্রকাশ: ২৯  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে আবারও নিজেদের শক্তি ও ঐতিহ্যের জানান দিল বার্সেলোনা। ডেনমার্কের ক্লাব কোপেনহেগেনকে ৪–১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতার শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কাতালান জায়ান্টরা। ম্যাচের শুরুতে অপ্রত্যাশিত ধাক্কা খেলেও দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নেয় হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু নকআউট পর্বে ওঠাই নয়, বরং নিজেদের আত্মবিশ্বাস ও শিরোপা স্বপ্নের শক্ত বার্তাও দিল বার্সা।

ম্যাচের শুরুটা ছিল বার্সেলোনার জন্য রীতিমতো হতাশাজনক। খেলা শুরুর মাত্র চতুর্থ মিনিটেই গোল হজম করে বসে তারা। কোপেনহেগেনের কিশোর ফরোয়ার্ড ভিক্টর দাদাসন বার্সার রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দলকে এগিয়ে দেন। মোহামেদ এলইয়নুসির নিখুঁত থ্রু পাসে বার্সেলোনার হাই ডিফেন্স লাইন ভেঙে একা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়ার সামনে চলে যান মাত্র ১৭ বছর বয়সী দাদাসন। তরুণ এই ফরোয়ার্ড ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেন। ইউরোপের মঞ্চে এত অল্প বয়সে এমন আত্মবিশ্বাসী ফিনিশ ফুটবলপ্রেমীদের নজর কাড়ে।

প্রথম গোল খাওয়ার পরও অবশ্য ভেঙে পড়েনি বার্সেলোনা। বরং ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা। প্রথমার্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রাখে কাতালানরা। মাঝমাঠে পেদ্রি ও দানি ওলমোর পাসিং নেটওয়ার্ক কোপেনহেগেনকে রক্ষণাত্মক হয়ে খেলতে বাধ্য করে। তবে এত আধিপত্যের পরও গোলের দেখা পায়নি বার্সা। রবার্ট লেভানদোস্কির দুটি প্রচেষ্টা এবং এরিক গার্সিয়ার একটি হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন কোপেনহেগেন গোলরক্ষক দোমিনিক কোটারস্কি। প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন ১–০ থাকলেও ম্যাচের প্রবাহ বলছিল, বার্সেলোনা যে কোনো সময় ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

দ্বিতীয়ার্ধে ঠিক সেটাই করে দেখান হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে বার্সেলোনা। ৪৮ মিনিটে দানি ওলমোর চোখধাঁধানো থ্রু পাসে ডান প্রান্ত দিয়ে ছুটে যান তরুণ বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। তার নিখুঁত অ্যাসিস্ট থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান রবার্ট লেভানদোস্কি। এই গোলের মাধ্যমে ম্যাচে সমতা ফেরানোর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ক্যারিয়ারের ১০৬তম গোল পূর্ণ করেন পোলিশ এই তারকা স্ট্রাইকার। ইউরোপের মঞ্চে তার ধারাবাহিক গোল করার ক্ষমতা আবারও প্রমাণিত হয়।

সমতায় ফেরার পর যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বার্সেলোনা। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে কোপেনহেগেনের রক্ষণভাগ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে। এক ঘণ্টার মাথায় লামিনে ইয়ামালের শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। ভাগ্য কিছুটা সহায়তা করলেও এই গোলের পেছনে ছিল বার্সার লাগাতার চাপ ও আক্রমণ। স্টেডিয়ামে উপস্থিত বার্সা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস তখন আকাশছোঁয়া।

এরপর ম্যাচ কার্যত কোপেনহেগেনের হাতছাড়া হয়ে যায়। ইয়ামালের আরেকটি বিপজ্জনক ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে ফাউলের শিকার হন লেভানদোস্কি। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন রাফিনিয়া। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩–১। এই গোলের পর কোপেনহেগেনের খেলোয়াড়দের চোখেমুখে হতাশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর বার্সেলোনা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে।

ম্যাচের শেষ দিকে বদলি হিসেবে মাঠে নামা মার্কাস রাশফোর্ড চূড়ান্ত আঘাত হানেন। ফ্রি-কিক থেকে নেওয়া তার শট নিকট পোস্টে গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে ঢুকে পড়ে। এই গোলের মাধ্যমে বার্সেলোনার বড় জয় নিশ্চিত হয়। নতুন ক্লাবে এসে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোল করে নিজের মূল্য প্রমাণ করেন রাশফোর্ড, যা ভবিষ্যতের জন্য বার্সার আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করার ইঙ্গিত দেয়।

এই জয়ের ফলে লিগ পর্বে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় বার্সেলোনা। গ্রুপ পর্বে ওঠানামার মধ্য দিয়েও শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত সাফল্য পায় দলটি। নকআউট পর্বে তাদের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে আসছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সাঁ-জার্মাঁ কিংবা ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের নাম। দুই দলই শক্তিশালী হওয়ায় পরের রাউন্ডে বার্সেলোনার জন্য চ্যালেঞ্জ যে সহজ হবে না, তা বলাই যায়।

হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার খেলার ধরনে ধীরে ধীরে ভারসাম্য ও ধারাবাহিকতা ফিরে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের মেলবন্ধন, দ্রুত পাসিং ফুটবল এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা আবারও বার্সাকে ইউরোপের ভয়ংকর দল হিসেবে গড়ে তুলছে। বিশেষ করে লামিনে ইয়ামালের মতো তরুণ প্রতিভার উত্থান ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক।

সব মিলিয়ে কোপেনহেগেনের বিপক্ষে এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং বার্সেলোনার ইউরোপীয় স্বপ্নকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার গল্প। শেষ ষোলোতে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সমর্থকদের মনে আবারও শিরোপার স্বপ্ন জেগে উঠছে। এখন দেখার বিষয়, নকআউট পর্বে বড় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এই আত্মবিশ্বাস কতটা কাজে লাগাতে পারে কাতালান জায়ান্টরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত