আপগ্রেডেশনে সাময়িক বন্ধ ই-ভ্যাট সিস্টেমের সেবা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
আপগ্রেডেশনে সাময়িক বন্ধ ই-ভ্যাট সিস্টেমের সেবা

প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভ্যাট আহরণ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, সহজ ও ব্যবহারবান্ধব করতে ই-ভ্যাট সিস্টেমে বড় ধরনের আপগ্রেডেশন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ই-ভ্যাট সিস্টেমের সব অপারেশনাল সার্ভিস নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এতে ব্যবসায়ী, ভ্যাটদাতা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হলেও এনবিআর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বন্ধের মেয়াদ শেষ হলে আগের তুলনায় আরও উন্নত ও কার্যকর সেবা পাওয়া যাবে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিট জানায়, সিস্টেম আপগ্রেডেশনের জন্য ২৯ জানুয়ারি দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩০ জানুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত ই-ভ্যাট সিস্টেমের সব ধরনের অপারেশনাল সেবা বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত সময় শেষে কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই সিস্টেম পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ই-ভ্যাট সিস্টেম চালুর পর থেকেই ধাপে ধাপে এর উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তাদের মতামত এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে এবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হচ্ছে। মূল লক্ষ্য হলো ভ্যাট রিটার্ন দাখিল, ডাটা এন্ট্রি ও ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করা।

আপগ্রেডেশনের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মুসক ৬.১০ ফর্মের হালনাগাদ। নতুনভাবে ডেভেলপ করা এই ফর্মে একাধিক পরিবর্তন যুক্ত করা হচ্ছে, যা ভ্যাটদাতাদের জন্য বড় সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে সেমি-অ্যানুয়াল রিটার্ন ফর্ম নির্বাচন করার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে, ফলে নির্দিষ্ট কর মেয়াদের জন্য রিটার্ন দাখিল আরও সহজ হবে। পাশাপাশি সাব-ফর্মে এক্সেল ফাইল থেকে সরাসরি ডাটা আপলোডের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য সময় ও শ্রম সাশ্রয় করবে।

এ ছাড়া ক্রয়সংক্রান্ত সাব-ফর্মে নির্বাচিত কর মেয়াদ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ মাস আগের তথ্য ইনপুট দেওয়ার সুবিধাও যুক্ত করা হচ্ছে। আগে এই ক্ষেত্রে সময়সীমা নিয়ে নানা জটিলতা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী সমস্যার মুখে পড়তেন। নতুন ব্যবস্থায় সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করছে এনবিআর।

ই-ভ্যাট সিস্টেমের ওবি ডাটা এন্ট্রি ফাংশনালিটিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আপগ্রেডেশনের পর ব্যবহারকারীরা এক্সেল ফাইলের মাধ্যমে ডাটা আপলোড করতে পারবেন, যা ম্যানুয়াল এন্ট্রির ঝামেলা কমাবে। একই সঙ্গে অনুমোদন প্রক্রিয়া বাতিল করা হচ্ছে, ফলে ডাটা সাবমিটের পর আলাদা করে অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। সফলভাবে ডাটা সাবমিট বা আপলোড হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি কেস আইডি জেনারেট হবে, যা ভবিষ্যতে ট্র্যাকিং ও রেফারেন্সের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

মাস্টার ডাটা লিস্ট ফাংশনালিটিতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখানে ‘ফুল ভ্যাট অফিস নেম’ নামে একটি নতুন ফিল্ড যুক্ত করা হচ্ছে, যাতে সংশ্লিষ্ট অফিসের সম্পূর্ণ তথ্য এক নজরে দেখা যায়। এতে করে ভ্যাট অফিস শনাক্তকরণে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ছাড়া মুসক-৯.১ ও মুসক-৯.২ এমসিএফ ফর্মেও হালনাগাদ আনা হচ্ছে। নতুন আপডেটে ডকুমেন্ট তালিকায় ‘এনি আদার ডকুমেন্টস’ যুক্ত করা হবে, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত কাগজপত্র সংযুক্ত করার সুযোগ দেবে। হার্ড কপি রিটার্ন সাবমিশন কনফার্মেশনের মাধ্যমে কোনো কর মেয়াদ অনুমোদিত হলে এই ডকুমেন্ট সংযুক্তি বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে রিটার্ন যাচাই ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ই-ভ্যাট সিস্টেমে ই-মেইল ও নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। নতুন ব্যবস্থায় ডিডিও ইউজার আইডির ভূমিকা যাচাই করে নোটিফিকেশন পাঠানো হবে, যাতে ভুল বা অননুমোদিত নোটিফিকেশন পাঠানোর ঝুঁকি কমে। এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো ই-ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব ব্যবসায়ী রিটার্ন দাখিল বা সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন না, তাদের জন্য এনবিআর পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা নেই, তবে অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রযুক্তিগত কারণে সেবা বন্ধ থাকলে এনবিআর সাধারণত করদাতাদের স্বার্থে সময়সীমা নিয়ে নমনীয় অবস্থান নেয়।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মতে, ই-ভ্যাট সিস্টেমের এই আপগ্রেডেশন দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা বলছেন, ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করে এর ব্যবহার সহজ হওয়া ও প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতার ওপর। এক্সেল ফাইল আপলোড, স্বয়ংক্রিয় কেস আইডি এবং কম অনুমোদন ধাপ যুক্ত হলে কাজের গতি বাড়বে এবং ভ্যাটদাতাদের ভোগান্তি কমবে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা আশাবাদী, আপগ্রেডেশন শেষ হলে ই-ভ্যাট সিস্টেম আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হয়ে উঠবে। এতে ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা বাড়বে, কর ফাঁকি কমবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা পাবেন সময়োপযোগী ও ব্যবহারবান্ধব একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়ের জন্য ই-ভ্যাট সিস্টেম বন্ধ থাকলেও এটি যে বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ, সে বিষয়ে এনবিআর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময় শেষে সিস্টেমের সব সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু হবে এবং ব্যবহারকারীরা আপডেটেড ফিচারসহ ই-ভ্যাট সিস্টেম ব্যবহার করতে পারবেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত