বাংলাদেশের পক্ষে বয়কটের হুমকি, শেষে কলম্বোর টিকিট কাটল পাকিস্তান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
বাংলাদেশের পক্ষে বয়কটের হুমকি, শেষে কলম্বোর টিকিট কাটল পাকিস্তান

প্রকাশ:  ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের প্রতি ‘অবিচার’ হয়েছে—এই অভিযোগ তুলে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোড়নও তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, সত্যিই কি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেবে পাকিস্তান? তবে নাটকীয় সেই অবস্থান থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসে টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার দিকেই হাঁটছে পিসিবি। বয়কটের জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই সামনে এসেছে নতুন তথ্য—বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কলম্বোর টিকিট কেটে ফেলেছে পাকিস্তান দল।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেলিকম এশিয়া স্পোর্টস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইতোমধ্যেই দলকে পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শুধু নির্দেশনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বিষয়টি; সালমান আলি আঘার নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের কলম্বো যাওয়ার ফ্লাইটও আগেভাগেই বুক করা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ করেই অজিদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে কলম্বো যাবে পাকিস্তান দল।

এই খবর প্রকাশের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি বাংলাদেশকে ঘিরে দেওয়া বয়কটের হুমকি ছিল কেবল কৌশলগত চাপ? নাকি বাস্তবতার কঠিন হিসাব-নিকাশেই শেষ পর্যন্ত নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে পিসিবি?

এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রকাশ্যেই জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল ক্ষোভ ও অসন্তোষ। নিরাপত্তা ইস্যু দেখিয়ে ভারত থেকে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি না মানায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়—যাকে ‘অবিচার’ বলে অভিহিত করে পাকিস্তান। সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদেই পিসিবির কণ্ঠ ছিল বেশ কঠোর।

বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় একটি অংশ তখন পাকিস্তানের এই অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা আলোচনা, বিশ্লেষণ ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মনে করেছিলেন, ক্রিকেট রাজনীতির জটিল অঙ্কে পাকিস্তান হয়তো এবার সত্যিই দৃঢ় অবস্থান নেবে। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবতা অন্য ছবিই দেখাচ্ছে।

বিশ্বকাপের মতো আইসিসি আয়োজিত একটি বড় টুর্নামেন্ট বর্জন করা যে শুধু আবেগের সিদ্ধান্ত হতে পারে না, সেটাই শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট হয়েছে। পিসিবির ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা, আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্ভাব্য শাস্তির হিসাব মিলিয়ে দেখা গেলে বয়কটের সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা বুঝতে খুব একটা সময় লাগেনি।

বিশ্বকাপ বর্জন করলে পাকিস্তান ক্রিকেটকে যে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতো, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে আলোচনা ছিল শুরু থেকেই। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্ট বয়কট করলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে আইসিসির কোনো টুর্নামেন্ট আয়োজনের অধিকার হারানো, বার্ষিক রাজস্ব বণ্টন বন্ধ হয়ে যাওয়া—এমন আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতির মুখেও পড়তে পারত পিসিবি।

এ ছাড়া সবচেয়ে বড় আশঙ্কা ছিল পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) নিয়ে। বিশ্বকাপ বয়কটের কারণে যদি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে হয়ে পড়ে, তাহলে পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের এনওসি পাওয়া কঠিন হয়ে যেত। এতে লিগটির মান, জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ—সবকিছুই বড় ধাক্কার মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল।

এই সব বাস্তবতার নিরিখেই শেষ পর্যন্ত পিসিবিকে নমনীয় হতে হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কলম্বোর টিকিট বুকিংয়ের খবর সেই সিদ্ধান্তেরই বাস্তব প্রমাণ। যদিও প্রকাশ্যে এখনো বাংলাদেশের প্রতি সমর্থনের অবস্থান পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি পাকিস্তান, তবে মাঠের প্রস্তুতি বলছে অন্য কথা।

এদিকে নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে, বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করতে পারে পাকিস্তান। যদিও এই বিষয়ে পিসিবির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। টিম ম্যানেজমেন্টকে আপাতত পুরো বিশ্বকাপের কথাই মাথায় রেখে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্যই নিজেদের প্রস্তুত রাখতে চাইছে পাকিস্তান দল।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলছে পাকিস্তান। সিরিজটি শুধু ফলাফলের দিক থেকেই নয়, বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। দলের কম্বিনেশন, তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্বের ভার সামলানোর বিষয়গুলো এই সিরিজ থেকেই যাচাই করে নিতে চাইছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের অবস্থান যে পুরোপুরি বদলে গেছে, এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে বাস্তবতার চাপে আবেগের জায়গা থেকে সরে এসে কূটনৈতিক ও কৌশলগত পথে হাঁটছে পিসিবি—এমন ধারণাই জোরালো হচ্ছে। ক্রিকেট যে এখন শুধু মাঠের খেলা নয়, বরং রাজনীতি, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল মেলবন্ধন—এই ঘটনাপ্রবাহ সেটিই আবারও প্রমাণ করছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কিংবা আইসিসির পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে পাকিস্তানের কলম্বো যাত্রার প্রস্তুতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষ পর্যন্ত তাদের দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মাঠের লড়াইয়ে সেই উপস্থিতি কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত তথ্য, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসন্ধান এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত