দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরাইলি দূতকে বহিষ্কার করল ৭২ ঘণ্টায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪১ বার
দক্ষিণ আফ্রিকা ইসরাইলি দূতকে বহিষ্কার করল ৭২ ঘণ্টায়

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইসরাইলের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক নতুনভাবে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার ঘোষণা করেছে, দেশটিতে নিযুক্ত ইসরাইলের চার্জ ডি’ অ্যাফেয়ার্স অ্যারিয়েল সেডম্যানকে অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইসরাইলের সম্পর্ক ইতিমধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলার পর সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্তরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশের মধ্যে ছিল।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেডম্যান কূটনৈতিক নিয়ম ও অনুশীলনের অগ্রহণযোগ্য লঙ্ঘন করেছেন। এই লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার ওপর বারবার অপমানজনক আক্রমণ চালানোর জন্য ইসরাইলের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং ঊর্ধ্বতন ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দেশ সফর সম্পর্কে দক্ষিণ আফ্রিকার কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করার ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতা। মন্ত্রণালয় এ ধরনের আচরণকে দেশটির সার্বভৌমত্বের সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করেছে।

ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকা ফিলিস্তিনের অধিকার ও ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমবর্ধমান ভূমিকা রাখছে। গাজা উপত্যকায় চলমান অবরোধ এবং গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করা এই দেশের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ককে ক্রমেই খারাপ করেছে। সেদিক থেকে এই পদক্ষেপ ইসরাইলের প্রতি দেশের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন।

এই সিদ্ধান্তের পর প্রিটোরিয়ায় ইসরাইলি দূতাবাসের এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করার পরও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মধ্যে রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার এই পদক্ষেপ শুধু একক দূতকে বহিষ্কার করা নয়, বরং এটি ইসরাইলের আন্তর্জাতিক কর্মকাণ্ড এবং তার সামাজিক ও কূটনৈতিক আচরণের ওপরও একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে একটি প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

এছাড়া দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় রাখতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ফিলিস্তিনের মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি দায়বদ্ধতা দেখাতে আগ্রহী। এর আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ইসরাইলের গাজা নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে। এ ধরনের পটভূমিতে সেডম্যানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা দেশের নীতি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষায় আগ্রহের প্রতিফলন।

দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেডম্যানকে দেশ ছাড়ার জন্য ৭২ ঘণ্টার সময় দেওয়ার মাধ্যমে দেশটি কূটনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ধরন এবং আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।

সংক্ষেপে বলা যায়, দক্ষিণ আফ্রিকার এই পদক্ষেপ ইসরাইলের কূটনৈতিক আচরণ এবং আন্তর্জাতিক নীতির বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ইসরাইলের অবস্থানকেও নতুন আলোচনার জন্ম দেবে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার রক্ষা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত