রিয়ালে এমবাপ্পে একা, দলীয় গোলের অর্ধেক তারই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
রিয়ালে এমবাপ্পে একা, দলীয় গোলের অর্ধেক তারই

প্রকাশ: ৩১  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, কিলিয়ান এমবাপ্পে একাই দলের গোলের প্রায় অর্ধেক বহন করছেন। ২০২১ সালের আর্জেন্টিনার কেসটা মনে করুন। তখন কোপা আমেরিকা জেতার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হত, ‘মেসি একা কী করবেন!’ এখন সেই একই প্রশ্ন রিয়ালের ক্ষেত্রে উঠে এসেছে—‘এমবাপ্পে একা কী করবেন!’।

এমবাপ্পের প্রভাব সাম্প্রতিক ম্যাচের পরিসংখ্যানেই চোখে পড়ে। চ্যাম্পিয়নস লিগে বেনফিকার বিপক্ষে ৪–২ হারের ম্যাচে দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শট এবং ড্রিবলিং করেছেন এমবাপ্পে। আক্রমণাত্মক তৃতীয় অঞ্চলে সর্বোচ্চ ২২টি পাস এসেছে তাঁর কাছ থেকে। এছাড়া তিনি তিনটি সৃষ্টিশীল গোল সুযোগ তৈরি করেছেন এবং একমাত্র গোলও করেছেন। পুরো ম্যাচে বোঝা যায়, তিনি অন্তত চেষ্টা করেছেন, যদিও দলের বাকিরা তার সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

মৌসুমজুড়ে এমবাপ্পের এই পরিসংখ্যান আরও প্রমাণ করে তাঁর একক প্রভাব। ২০২৫–২৬ মৌসুমে রিয়াল মোট ৩৩ ম্যাচে ৭৫টি গোল করেছে, যার মধ্যে ২৯ ম্যাচে এমবাপ্পে একাই করেছেন ৩৬টি। অন্য কোনো খেলোয়াড় দুই অংকের গোলের গণ্ডি ছুঁতে পারেননি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা ভিনিসিয়ুস মাত্র ৭টি গোল করেছেন, জুড বেলিংহাম ৬টি। লা লিগায় এখন পর্যন্ত এমবাপ্পে ২০ ম্যাচে ২১ গোল করেছেন এবং সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় অন্য কাউকে তুলনা করা অনেকটা কঠিন।

চ্যাম্পিয়নস লিগেও এমবাপ্পের একক প্রভাব চোখে পড়ছে। ৭টি ম্যাচে ১৩ গোলের সঙ্গে তিনি সবার ওপরে আছেন। দলের অন্য কেউ শীর্ষ ৫০-এ স্থান পায়নি। বেলিংহাম ৭ ম্যাচে ২টি গোলের সঙ্গে ৫৪তম অবস্থানে। এই অবস্থায় স্পষ্ট, রিয়ালের দলীয় পারফরম্যান্সের ভারসাম্য নেই। এমবাপ্পের গোলের কারণে দলের অন্যদের ব্যর্থতা আরও বেশি ফুটে ওঠে।

ফলে লা লিগায় রিয়াল বার্সার সঙ্গে মাত্র ১ পয়েন্ট ব্যবধানে পিছিয়ে দুইয়ে অবস্থান করছে। চ্যাম্পিয়নস লিগে পরিস্থিতি আরও চ্যালেঞ্জিং; বেনফিকার হারের কারণে রিয়ালকে শেষ ষোলোর জন্য প্লে অফ খেলতে হবে। এমবাপ্পে প্রতিযোগিতায় নিয়মিত গোল করছেন, কিন্তু দলের বাকিরা প্রত্যাশিত সময়ে সফল হননি।

গত দুই মাসের পরিসংখ্যান দেখালেও এমবাপ্পে একাই রিয়ালের ৬২.১ শতাংশ গোল করেছেন। সর্বশেষ ১২ ম্যাচে তাঁর গোল ১৮টি। শুধু সেল্তা ভিগো এবং বার্সার বিপক্ষে গোল পাননি, আর সেই দুই ম্যাচে রিয়াল হেরেছে। বাকি ৯টি দলের বিপক্ষে গোল করেছেন এবং ৭টিতে জয়, একটি ড্র। শুধুমাত্র বেনফিকারকে হারতে হয়েছে, যেখানে তিনি ২ গোল করেছেন।

এমবাপ্পের এই একক প্রভাব রিয়ালে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিনগুলো মনে করিয়ে দেয়। রোনালদোও রিয়ালে আছেন, ২০১৩ সালে ৫৯ গোল করেছিলেন, কিন্তু দলের অন্যান্য খেলোয়াড়ও সমর্থন দিতেন। এমবাপ্পে গত মৌসুমে রোনালদোর রেকর্ড ছুঁয়েছেন এবং এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ গ্রুপ পর্বে রোনালদোর রেকর্ডও ভেঙেছেন। চলতি মৌসুমে ম্যাচ প্রতি ১.২৪টি গোল করে যাওয়ায় মৌসুম শেষে তার গোল সংখ্যা ৬৬ পর্যন্ত যেতে পারে।

একটি চোখে পড়ার বিষয়, রোনালদো কখনও দলের মোট গোলের ৩৭.৬ শতাংশের বেশি গোল করেননি। এমবাপ্পের ক্ষেত্রে মৌসুমের অর্ধেক পথ অতিক্রম করতে না করেই তিনি দলের মোট গোলের ৬২ শতাংশ একাই করেছেন। এই প্রভাবই রিয়ালে ফুটবলের দলীয় ভারসাম্যহীনতা এবং একক নির্ভরতার বিষয় তুলে ধরে।

ফুটবলে এমবাপ্পের একক প্রভাব যেমন প্রশংসনীয়, তেমনই চিন্তার কারণও। দলীয় খেলা হওয়া সত্ত্বেও তিনি একাই দলের আক্রমণ চালাচ্ছেন। রিয়ালের পারফরম্যান্সের সফলতার সঙ্গে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত সাফল্য যুক্ত হলেও সমর্থকরা দলের প্রত্যাশিত সমন্বয় ও ব্যালান্সের অভাব অনুভব করছেন।

অতএব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠছে প্রশ্নটি, যা ২০২১ সালের আর্জেন্টিনার মেসির জন্য বলা হতো—রিয়ালে এমবাপ্পে একা কী করবেন! পরিসংখ্যান এবং গোলের প্রভাবই প্রমাণ করছে, তিনি একাই রিয়ালকে টেনে নিচ্ছেন, কিন্তু দলের বাকিদের সমর্থন না থাকায় প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা কঠিন।

এই মৌসুমে এমবাপ্পে একাই রিয়ালের গোলের অর্ধেকের বেশি করেছে। তার নিরলস প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক গোলের মাধ্যমে রিয়ালের গোলদান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে, যদিও দলীয় পারফরম্যান্সের ভারসাম্যহীনতা সমাধান করা এখনো চ্যালেঞ্জ। এমবাপ্পের এই একক প্রভাবই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে—একজন খেলোয়াড়ের একা করার ক্ষমতা এবং দলীয় ফুটবলের সীমাবদ্ধতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত