প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নেপালের মাটিতে শেষ ম্যাচেও জয়ের ধারা অব্যাহত রেখে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। টানা ছয় জয়ের মাধ্যমে আগে থেকেই মূলপর্ব নিশ্চিত করেছিল লাল সবুজরা, আর শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে নিখুঁতভাবে বাছাইপর্ব শেষ করলো টাইগ্রেসরা।
রোববার সুপার সিক্সের এই ম্যাচে ১০৩ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৬.৪ ওভারে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি এবং মোস্তারি সোবানার ৫৭ রানের অপরাজিত জুটির ওপর ভর করেই দল বড় জয় তুলে নেয়। জ্যোতি ৪৪ বল খেলে ৭ চারে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন, আর সোবানা ২৩ বল খেলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৩৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
খেলার শুরুতে অবশ্য চাপ অনুভব করেছিল টাইগ্রেসরা। মাত্র ৬ রান তুলতেই সাজঘরে ফিরেছিলেন দুই ওপেনার দিলারা আক্তার (৪) ও জুরাইরিয়া ফেরদৌস (০)। এরপর তৃতীয় উইকেট জ্যোতির সঙ্গে ৪২ রানের জুটি গড়েন শারমিন আক্তার, ২৮ বলে ১৩ রান করে তিনি বিদায় নিলে সোবানা যোগ্য সঙ্গ দেন জ্যোতির। এই জুটি শেষ পর্যন্ত দলের জয় নিশ্চিত করে।
বল হাতে বাংলাদেশের বোলিংও ছিল দুর্দান্ত। নাহিদা আক্তার ও মারুফা আক্তারের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ডাচদের স্কোর আটকে যায় মাত্র ১০২ রানে। নাহিদা ৪ ওভারে ১ মেডেন দিয়ে ১০ রানে ৩ উইকেট নেন, আর মারুফা ৪ ওভারে ১৪ রানে ১ উইকেট শিকার করেন। তাদের কড়াকড়ি বোলিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ডাচরা ৬ উইকেট হারিয়ে থেমে যায়।
এর আগে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র, পাপুয়া নিউগিনি, নামিবিয়া ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। সুপার সিক্সে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে মূলপর্ব নিশ্চিত করেছিল টাইগ্রেসরা। এরপর স্কটল্যান্ড এবং আজকের নেদারল্যান্ডসের হার নিশ্চিত করে বাছাইপর্বের শীর্ষ স্থান অধিকার করে বাংলাদেশ।
এই অসাধারণ জয় দিয়ে টাইগ্রেসরা প্রমাণ করেছে, আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে তাদের উচ্চমান বজায় রয়েছে। অধিনায়ক জ্যোতি-মোস্তারির নেতৃত্বে দল শুধু কৌশলগতভাবে নয়, মানসিকভাবে শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে। দলের এই ধারাবাহিক সাফল্য নারী ক্রিকেটের প্রতি দেশের আস্থা ও উদ্দীপনা আরও বৃদ্ধি করেছে।
আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারীদের দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ। ১২ দলের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার টিকিট কেটে নেওয়ায় দেশের নারী ক্রিকেটের জন্য এটি নতুন এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। বিশ্বকাপের মূলপর্বে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচ দর্শক এবং ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল নিজেদের প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং অভিজ্ঞতার জোরে আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে। সুপার সিক্সের শেষ ম্যাচের এই জয় নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে। প্রধান খেলোয়াড়দের সামর্থ্য, দলের ঐক্য এবং সঠিক কৌশল মিলে টাইগ্রেসদের এই অসাধারণ সাফল্য সম্ভব হয়েছে।