নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুবদলকে টার্গেট করে অপপ্রচার: মোনায়েম মুন্না

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ বার

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নির্বাচনের ঘনিয়ে আসা মুহূর্তে জাতীয়তাবাদী যুবদলকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য, মিথ্যাচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ করেছেন যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে যুবদলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

রোববার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মোনায়েম মুন্না বলেন, “দেশের মানুষ আজ গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা থামাতে ব্যর্থ হয়ে একটি মহল কুৎসা, গুজব ও প্রোপাগান্ডার আশ্রয় নিয়েছে। জনগণের রায় কোনো কাগজে-কলমে লেখা স্ক্রিপ্ট নয়—এটি মানুষের নিজের লেখা, এবং সেই রায় আজ স্পষ্টভাবে বিএনপির পক্ষেই।”

তিনি সংবাদ সম্মেলনে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরে অপপ্রচারের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। প্রথম ঘটনায় তিনি বলেন, সম্প্রতি কটুয়াখালী বাউলফলে একটি সাধারণ সামাজিক ঘটনার সঙ্গে যুবদলকে জড়িয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, আক্রান্ত ব্যক্তি মোশাররফ হোসেনের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। আরও বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, তবে তা রাজনৈতিক রঙ দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় ঘটনায় তিনি উল্লেখ করেন, ২৯ জানুয়ারি কুষ্টিয়ার বাক্সব্রিজ এলাকায় একটি স্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুফতি আমির হামজা যুবদলের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছেন। স্থানীয় যুবদল কর্মী নাসিরের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ বা হামলা হয়নি, তবুও ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় মনগড়া অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে। মোনায়েম মুন্না বলেন, “এটি নারীর সম্মান, মায়ের মর্যাদা এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ঘৃণ্য অপচেষ্টা।”

তৃতীয় উদাহরণে তিনি জানান, ১৬ জানুয়ারি রাজবাড়ী সদর উপজেলার একটি তেল ক্রয় সংক্রান্ত ঘটনায় একজন শ্রমিক নিহত হলে অভিযুক্তকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচার করা হয়। বাস্তবে অভিযুক্ত ২০১৯ সালে জেলা যুবদলের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। সাত বছর আগে পদত্যাগ করা একজনকে যুবদল নেতা হিসেবে প্রচার করা দুঃখজনক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

চতুর্থ ঘটনা হিসেবে ১৯ জানুয়ারি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার একটি পারিবারিক বিরোধকে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়া হয়েছে। যুবদলের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া ফটোকপি তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।

পঞ্চম ঘটনার মধ্যে ৩১ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে এক রাজনৈতিক কর্মীর মৃত্যুতে যুবদলকে অযৌক্তিকভাবে জড়ানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুবদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মোনায়েম মুন্না সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে বলেন, “নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই যুবদলকে টার্গেট করে সাজানো নাটক, মিথ্যা ভিডিও, বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা ও আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা হচ্ছে। যুবদল এসব অপপ্রচারের কাছে মাথা নত করবে না। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী আমরা রাজপথে, গণমাধ্যমে ও আইনি লড়াইয়ে কঠোর অবস্থান নেব।”

তিনি দেশবাসী ও সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সত্য যাচাই করুন, অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না এবং গণতন্ত্র ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় সচেতন ভূমিকা পালন করুন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত