সর্বশেষ :

ভারতের বিপক্ষে না খেলে পাকিস্তান রেহাই পাবে আইসিসি থেকে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৪ বার
ভারতের বিপক্ষে না খেলে পাকিস্তান রেহাই পাবে আইসিসি থেকে

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে পাকিস্তান ক্রিকেট একটি বিতর্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি। পাকিস্তান সরকার ভারত বিরোধী নীতি অনুসরণ করে দেশের ক্রিকেট দলকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার নির্দেশ না দেওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সম্প্রদায়ের নজরে এসেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত সাধারণত আইসিসি বা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের কাছ থেকে শাস্তির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।

২০২৫ সালে পাকিস্তান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজন করেছিল। কিন্তু ভারতের সরকারি নির্দেশনায় ভারতীয় দল পাকিস্তানে খেলতে রাজি হয়নি। সেই সময় পাকিস্তান-ভারত দ্বিপাক্ষিক ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতে হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠিত হয়। ভারত তখনও পাকিস্তানের মাঠে খেলতে অস্বীকার করায় আইসিসি কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মানি মনে করেন, আসন্ন বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপরীতে শাস্তি আরোপ করা হবে না।

স্পোর্টস্টারের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মানি বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো দেশের ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্তের উপর আইসিসির জোর প্রয়োগ করা যায় না। ভারতের অভিজ্ঞতা এখানে দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করছে। তৎকালীন চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সময়ও ভারত সরকার পাকিস্তান খেলোয়াড়দের পাকিস্তানে যেতে অস্বীকার করেছিল। সেই কারণে আইসিসি কোনো শাস্তি আরোপ করেনি। দ্বিমুখী নীতি অবলম্বন করা হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “আইসিসি অনেকসময় সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কেবল দর্শকের ভূমিকা পালন করে।”

মানি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, পাকিস্তানে পিসিবি চেয়ারম্যানদের নিয়ন্ত্রণে সরকার সরাসরি জড়িত। তাই কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকারকে সম্পৃক্ত করা হয়। তিনি বলেন, “যেকোনো দেশের ক্ষেত্রে আইসিসি সরকারি নির্দেশনায় সম্পৃক্ত থাকার সুযোগ রেখে দেয়। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এটি আরও প্রাসঙ্গিক, কারণ পিসিবি চেয়ারম্যান এক সরকারি মন্ত্রীর অধীনে থাকেন।”

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচগুলো শুধু প্রতিযোগিতা নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের আয় সিংহভাগ আসে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ম্যাচ থেকে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, এই ম্যাচের বাজারমূল্য প্রায় ৬১৫০ কোটি টাকা। প্রতিটি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন থেকেও আইসিসি আয় করে প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। এছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং ও সম্প্রচার থেকে আসে উল্লেখযোগ্য অর্থ। ফলে এই ম্যাচ না হলে আইসিসি ও সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

এই কারণেই পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক কারণে শাস্তি দেওয়ার বিষয়টি আইসিসি বিবেচনা করতে পারবে না। যদিও অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ও ভবিষ্যতে অনৈতিক উদাহরণ তৈরি না করার জন্য পাকিস্তানকে কিছু ধরণের শর্তের মধ্যে রাখা হতে পারে। তবে মানি মনে করেন, শাস্তির আশঙ্কা কম, কারণ সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে সরকারি নির্দেশনার কারণে, যা দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান এবং ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রিকেটের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। রাজনৈতিক কারণে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট সীমিত হলে আইসিসির শাস্তি দিতে কঠিন হয়ে পড়ে। ভারতের মতো শক্তিশালী ক্রিকেট দেশ যখন সরাসরি অংশ নেন না, তখন আইসিসি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়। পাকিস্তানকে যে কোনো শাস্তি দেওয়া হলে তা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।

বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে পাকিস্তান-ভারত ম্যাচের দর্শকসংখ্যা সর্বাধিক থাকে। শুধু স্টেডিয়াম নয়, টেলিভিশন ও ডিজিটাল মাধ্যমে এই ম্যাচের দর্শক ও বিজ্ঞাপন আয়ের দিক থেকেও তা সবচেয়ে লাভজনক। তাই আইসিসি এই ম্যাচ বাদ দিলে শুধু ক্রিকেটীয় ক্ষতি নয়, বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এ কারণে পাকিস্তানের শাস্তি বা বঞ্চনার সুযোগ সীমিত।

মানি বলেন, “ক্রিকেট পরিচালনায় আইসিসির উচিত সমস্যা সমাধান করা, কিন্তু বাস্তবে তারা প্রায়ই শুধুই পরিস্থিতির দর্শক হিসেবে থাকে। পাকিস্তান সরকারের নির্দেশনায় পিসিবি কাজ করছে, তাই আইসিসির জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া সহজ নয়। এটি একটি রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা।”

সংক্ষেপে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত না খেলার সিদ্ধান্ত আইসিসির জন্য এক জটিল চ্যালেঞ্জ। শাস্তির ধারায় অগ্রসর হওয়া কঠিন, কারণ সমস্যার মূল কারণ সরকারী নির্দেশনা। একই সঙ্গে আইসিসির আর্থিক ক্ষতি ও দর্শক আগ্রহও বিবেচনায় রাখতে হয়। সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি মনে করেন, পাকিস্তান এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাবে এবং কোনো শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে না।

অতএব, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান অংশগ্রহণ করবে, যদিও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অনিশ্চয়তা দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রাজনীতি ও আর্থিক বাস্তবতার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com