সর্বশেষ :

টানা দুই দিনে সোনার দাম ভরিতে কমল ৩,৮৪৯ টাকা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩ বার
টানা দুই দিনে সোনার দাম ভরিতে কমল ৩,৮৪৯ টাকা

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের স্বর্ণপ্রেমী সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নজর কেড়ে দেশের জুয়েলারি বাজারে স্বস্তির খবর নিয়ে টানা দুই দিন হ্রাস পেল মূল্যবান ধাতু সোনার দাম। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা সোনার দাম দৃশ্যমান হারে কমার কারণে সোনার সার্বিক মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। টানা এই দরপতনের ধারায় আজ শুক্রবার ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। এর আগের দিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবারও সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল। যার ফলে টানা দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা পর্যন্ত কমে গিয়ে ক্রেতাদের মাঝে নতুন করে কেনাকাটার আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় স্বর্ণ বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি আজ সকালে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার দাম কমানোর সিদ্ধান্তটি আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানায়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় বাজরে তেজাবি বা বিশুদ্ধ সোনার দাম লক্ষণীয়ভাবে কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে ক্রেতাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে এই মূল্য সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গোল্ড মার্কেটে বিশ্বব্যাপী সোনার দরপতনই মূলত দেশের বাজারে এই দর সংশোধনের প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে সমন্বয়কৃত এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে।

ঘোষিত নতুন দরকাঠামো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আজ থেকে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা হ্রাস পেয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায় নির্ধারিত হয়েছে। এর পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দামেও বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। ভরিতে ২ হাজার ১০০ টাকা কমে ২১ ক্যারেটের সোনার দর বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকায়, যা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ অলঙ্কার ক্রেতাদের জন্য কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক স্বস্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একইভাবে সনাতন ও অন্য ক্যারেটের সোনাতেও এই দরপতনের ধারা সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে। নতুন মূল্যসূচি অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। অন্যদিকে চিরন্তন ও ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দামও ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে নতুন করে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায়। বিয়ের মৌসুমের আগে কিংবা সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছিলেন, তাঁদের জন্য টানা দুই দিনের এই বড় ব্যবধানের মূল্যহ্রাস অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।

কেবল মূল্যবান সোনাতেই নয়, অলঙ্কার তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত মূল্যবান অপর ধাতু রুপার মূল্যেও কিছুটা নিম্নমুখী পরিবর্তন এসেছে। ২২ ক্যারেটের ভালো মানের এক ভরি রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এর সাথে পাল্লা দিয়ে ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দামেও একই পরিমাণের অর্থাৎ ১৭৫ টাকা পতন ঘটেছে, যার ফলে এর নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়। তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী জুয়েলারি দোকান থেকে সোনা কিংবা রুপার অলঙ্কার ক্রয়ের সময় নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের ওপর সরকার কর্তৃক নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট যুক্ত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ধারাবাহিক এই দরপতনের বিবরণ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, আজ শুক্রবার সারাদেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের সোনার ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৫৮ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবারও সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৯১ টাকা কমানো হয়েছিল। যার ফলে টানা মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে মোট ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা পর্যন্ত কমে এসেছে। বিয়ে কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের কেনাকাটার এই ব্যস্ত মৌসুমে সোনার দরপতনের এই ঘটনা সাধারণ মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় জুয়েলারি মার্কেটের সার্বিক লেনদেনের পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে আজ শুক্রবার সকালে একজরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনার দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানায় বাজুস। সংগঠনটির মুখপাত্রদের তরফ থেকে জানানো হয়, দেশীয় বাজারে তেজাবি বা পাকা সোনার দাম সার্বিকভাবে কমে যাওয়ায় ক্রেতাসাধারণের কেনাকাটার সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাজুসের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে এই মূল্য সমন্বয় সাধন করা হয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ কারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটে সোনার দর ব্যাপকভাবে পড়ে যাওয়াকেই দেশের বাজারে এই বড় ধরনের দর সংশোধনের প্রধান এবং অন্যতম মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই সমন্বয়কৃত এই নতুন দর সারাদেশে একযোগে কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন দরকাঠামো অনুসারে, আজ থেকে বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা হ্রাস পেয়ে নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দামেও ব্যাপক পতন লক্ষ্য করা গেছে। ভরিপ্রতি ২ হাজার ১০০ টাকা কমে ২১ ক্যারেটের সোনার দর বর্তমানে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকায়। দরপতনের এই হার সাধারণ মানুষকে সোনার অলঙ্কার কেনার দিকে পুনরায় আগ্রহী করে তুলবে বলে ধারণা করছেন দেশের শীর্ষ জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা।

একই সাথে প্রচলিত অন্যান্য ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির সোনায় এই দরপতনের প্রভাব বেশ গভীরভাবে পড়েছে। নতুন সমন্বয়কৃত মূল্যসূচি অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা। আর চিরন্তন ও ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমে নতুন করে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায়। সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে কিংবা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ হিসেবে যারা সোনা কিনে রাখতে চান, তাঁদের জন্যও টানা দুই দিনের এই অস্বাভাবিক মূল্যহ্রাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও লাভজনক সুযোগ তৈরি করেছে।

কেবল সোনার বাজারেই নয়, অলঙ্কার তৈরিতে সোনার প্রধান সহযোগী ও বহুল ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতুরূপার মূল্যেও দৃশ্যমান পতন এসেছে। ২২ ক্যারেটের মানসম্পন্ন এক ভরি রুপার দাম ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা। এর সাথে তাল মিলিয়ে ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দামেও সমপরিমাণ অর্থাৎ ১৭৫ টাকা পতন ঘটেছে, যার ফলে এর নতুন দাম গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায়। তবে দেশের প্রচলিত রাজস্ব আইন অনুযায়ী, যেকোনো জুয়েলারি শোরুম বা দোকান থেকে সোনা কিংবা রুপার তৈরি গহনা ক্রয়ের সময় নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট এবং নির্ধারিত মজুরি যুক্ত হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সোনার বাজারের সাম্প্রতিক এই নজিরবিহীন দরপতনের বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক ও অভিজ্ঞ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মত হলো, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন, অর্থনৈতিক সূচকের রদবদল, বিশ্ব অর্থনৈতিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও পরিবর্তন এবং মার্কিন ডলারের বিনিময় হারের ওঠানামার কারণে বিশ্ববাজারে সোনার দাম সাময়িকভাবে কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারের সেই বিশ্ব দরপতনের সুফল অত্যন্ত দ্রততার সঙ্গে বাংলাদেশের বাজারে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিক মন্দাভাবের ইতিবাচক সুযোগ নিয়ে দেশের সাধারণ ক্রেতারা এখন কিছুটা হলেও কম খরচে তাঁদের পছন্দের গহনা কেনার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন। আকস্মিক এই দরপতনের খবরের প্রভাবে সারাদেশের প্রধান প্রধান জুয়েলারি মার্কেটগুলোতে অলঙ্কারপ্রেমী ক্রেতাদের সমাগম ও কেনাকাটার ব্যস্ততা স্বাভাবিক দিনের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন দোকান মালিকরা।

সোনার বাজারের সাম্প্রতিক এই রেকর্ড দরপতনের বিষয়ে বাজার বিশ্লেষক ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ধারণা, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগকারীদের কৌশলগত রদবদল, সুদের হার সম্পর্কিত বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক বুলিয়ন মার্কেটের অস্থিরতার কারণেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে কিছুটা কমেছে। স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব অত্যন্ত দ্রুত ও সুস্পষ্টভাবে পড়েছে। তবে বিশ্ববাজারের এই ধারাবাহিক মন্দাভাবের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সাধারণ ক্রেতা ও অলঙ্কারপ্রেমীরা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ পাচ্ছেন। দরপতনের এই ইতিবাচক খবর দেশের বিভিন্ন স্বর্ণের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা ও ব্যস্ততা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কিছুটা হলেও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করছেন জুয়েলার্স মালিকরা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com