প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সোমবার ভোরে দুটি পৃথক ভূমিকম্প আঘাত হানে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। কাশ্মীরের বারামুলা জেলায় ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার কেন্দ্রস্থল ছিল পাত্তান এলাকা। ভূমিকম্পের কম্পন এতটা দৃঢ় ছিল যে শহরের মানুষ জেগে ওঠে এবং নিরাপদ স্থানে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হতে বাধ্য হন। তবে তৎক্ষণাৎ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
দ্য হিন্দু পত্রিকা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি মূলত ভূ-প্রকৃতির স্বাভাবিক উত্তেজনা থেকে উদ্ভূত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাশ্মীরের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান ভারতের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। এই অঞ্চলের ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটগুলো পরস্পরের সাথে সংঘর্ষ এবং সরণির কারণে ভূমিকম্প সাধারণভাবে ঘটে থাকে। যদিও ৪.৬ মাত্রার ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে মাঝারি ধরণের, তবুও এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক এবং উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এদিন একইসাথে ভোর আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও ৪.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার। ভূমিকম্পটির অবস্থান নির্ধারিত হয়েছে উত্তর অক্ষাংশ ৯.০৩ ডিগ্রি এবং পূর্ব দ্রাঘিমাংশ ৯২.৭৮ ডিগ্রি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ভূপৃষ্ঠের নিকটবর্তী ভূমিকম্প সাধারণত তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী হয় এবং স্থানীয়ভাবে কম্পন অনুভূত হয়, তবে এটি গভীর ও শক্তিশালী না হওয়ায় উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় না।
কাশ্মীরের বারামুলার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কম্পনের সময় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাড়ির বাইরে বের হন। স্কুল ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোরবেলায় কার্যক্রম বন্ধ ছিল, তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো জরুরি ক্ষতি বা আহতের খবর নেই। তাছাড়া, বাড়ি-বাড়ি বা ব্যবসায়িক স্থাপনার কোনো ধ্বংস বা বড় ধরনের ক্ষতির তথ্যও পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমিকম্প সম্পর্কে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কাশ্মীর অঞ্চলে ভূমিকম্পজনিত কম্পন সম্পূর্ণ নতুন ঘটনা নয়। এটি অঞ্চলটির ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থা ও প্লেট সরণির কারণে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তারা জনগণকে অনুরোধ করেছেন, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে শান্তভাবে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে এবং কোনো প্যানিক বা অপ্রয়োজনীয় সমাবেশ থেকে বিরত থাকতে।
এদিনের এই দুটি ভূমিকম্প ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকেরা আতঙ্কিত হলেও প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, এই ধরণের মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয় না। তবে এর প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই মানুষকে সতর্ক করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, ভবিষ্যতের বড় ধরনের ভূমিকম্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং সচেতনতা অপরিহার্য।
এনসিএস-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূপৃষ্ঠের নিকটে ঘটে যাওয়া এই ভূমিকম্পের কম্পন স্থানীয়ভাবে তীব্র হলেও এর প্রভাব সীমিত। ভূমিকম্পের গভীরতা ১০ কিলোমিটার হওয়ায় শক্তি বেশি বৃদ্ধি পায়নি। এ ছাড়া ভূমিকম্পের পরবর্তী পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে, কোনো বড় মাত্রার aftershock বা পরবর্তী কম্পনের আভাস পাওয়া যায়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তিদায়ক।
বিজ্ঞানীরা বলেন, কাশ্মীর ও আন্দামান-নিকোবরের মতো অঞ্চলগুলো ভূমিকম্পপ্রবণ। সুতরাং, ভবিষ্যতের জন্য বাড়িঘর ও অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল ডিজাইন করা জরুরি। প্রশাসনও নিয়মিত ভূমিকম্প সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করছে। এতে স্থানীয় মানুষ দ্রুত সাড়া দিতে পারবে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে।
ভোরের এই ভূমিকম্পের কম্পন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে এসেছে। বিশেষ করে কাশ্মীরের স্থানীয় সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, কম্পনের সময় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। আশেপাশের জেলা এবং শহরেও কম্পনের অনুভূতি মানুষ স্পষ্টভাবে অনুভব করেছে।
সংক্ষেপে, সোমবার ভোরের এই দুই ভূমিকম্প—কাশ্মীর ও আন্দামান-নিকোবর—তুলনামূলকভাবে মাঝারি মাত্রার হলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা দ্রুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো গুরুতর ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, যা ভালো খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।