পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট দাবি স্পষ্ট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৮ বার
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট দাবি স্পষ্ট

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকায় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবে জানান, সম্প্রতি কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুল। তিনি বলেন, “আমি বা আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিইনি। আমার পাসপোর্ট এখনও আমার কাছে আছে এবং যথারীতি বহাল আছে। এটা খুবই অস্বাভাবিক যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী তার মেয়াদ চলাকালে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন। আমি অবশ্যই তা করি নি।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কখনও কখনও উপদেষ্টা পরিষদের কেউ কেউ তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। তবে তিনি জানান, কারা করেছেন তা তিনি প্রকাশ করেননি। তিনি সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দেন, “উপদেষ্টারা কেউ কেউ সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছেন যাতে ভবিষ্যতে বিদেশ যাত্রার সময় ভিসা প্রাপ্তি সহজ হয়। এটি শুধু সময় সুবিধার জন্য করা হয়, যেন পাসপোর্ট প্রক্রিয়াকরণে কোনো জটিলতা না হয়। তবে এটা ঠিক নয় যে আমি পাসপোর্ট জমা দিয়েছি। আমার পাসপোর্ট যথারীতি বহাল আছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকলে সাধারণভাবে বিদেশে ভিসা প্রাপ্তি সহজ হয়, তবে এটি কোনো বাধ্যবাধকতা নয়। “বিষয়টা হলো একটু সময় গেইন করা, যাতে সময়মতো নতুন পাসপোর্ট পাওয়া যায়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের বি-ওয়ান ও বি-টু ভিসা, তা বাতিল হয় না যদি পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হয়। তবে নতুন পাসপোর্ট নেওয়া প্রয়োজন,” তিনি বলেন।

সম্প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তিনজন উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন—এমন সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা কারওয়ান বাজারে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজন করা নির্বাচন বিষয়ক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করা হয়। এই প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং জাতিসংঘের ‘ব্যালট’ ও ‘ড্রিপ’ প্রকল্প।

তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের কাছে আরও জানান, অনেক সময় উপদেষ্টারা পাসপোর্ট জমা দেয় যাতে তাদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং বিদেশ যাত্রায় কোনো জটিলতা তৈরি না হয়। তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার ক্ষেত্রে কোনো পাসপোর্ট জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, এটি খুবই স্বাভাবিক নয় যে একজন উপদেষ্টা বা মন্ত্রী মেয়াদ চলাকালে তার কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেন।

উল্লেখ্য, কূটনৈতিক পাসপোর্ট সাধারণ পাসপোর্টের তুলনায় বিদেশে যাত্রা, ভিসা প্রাপ্তি ও আন্তর্জাতিক বৈঠকে স্বাচ্ছন্দ্য এবং নির্দিষ্ট সুবিধা প্রদান করে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়া বা অন্যান্য প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু ক্ষেত্রে এটি জমা দেওয়া হতে পারে। তৌহিদ হোসেন এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, অন্য কেউ এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে, তবে তার ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে কোনো পাসপোর্ট জমা দেয়ার ঘটনা নেই।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের এই ব্যাখ্যা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভুল তথ্যের জবাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কূটনৈতিক পাসপোর্ট তার কাছে বহাল আছে এবং মেয়াদ অনুযায়ী বৈধ রয়েছে। এ বক্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা এবং জনমনে বিভ্রান্তি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তীতে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেয়ার ফলে বিদেশে ভিসা প্রাপ্তি সহজ হয় কি না। তৌহিদ হোসেন ব্যাখ্যা করেন, কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক সুবিধার জন্য উপদেষ্টা বা মন্ত্রী সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারেন। তবে এটি একটি নিয়মিত বা বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া নয়। তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন, তার ক্ষেত্রে কোনো জমা দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি এবং তার পাসপোর্ট সম্পূর্ণ বৈধ ও বহাল রয়েছে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এই অনুষ্ঠানকে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, দেশের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং কূটনৈতিক নিয়ম সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, কখনও কখনও মিডিয়ায় প্রকাশিত খবরগুলো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে, তাই ব্যক্তিগত ও সরকারি তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

সংক্ষেপে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার সংক্রান্ত গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন যে তার পাসপোর্ট যথারীতি বহাল আছে। তিনি সঠিক তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরে জানিয়েছেন, কিছু উপদেষ্টা সাময়িক সুবিধার জন্য সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারেন, তবে তার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত