শরীয়তপুরে যৌথ অভিযানে ৯৫ ককটেল উদ্ধার, আটক ৩

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬০ বার
শরীয়তপুরে যৌথ অভিযানে ৯৫ ককটেল উদ্ধার, আটক ৩

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় যৌথ পুলিশ ও সেনা বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। ভোররাতে পোড়াগাছা ব্যাপারী কান্দি এলাকা থেকে ১২টি বালতিতে রাখা অবস্থায় ৯৫টি ককটেল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নড়িয়া থানা সূত্র জানায়, অভিযানটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। জানা যায়, পোড়াগাছা ব্যাপারী কান্দি এলাকায় ককটেল মজুত থাকার খবর পাওয়া গেলে সোমবার ভোরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে পেদা মসজিদের বারান্দাঘর এবং খলিল পেদা, জিলু মাদবর ও বাচ্চু পেদার বাড়ি থেকে বিপুল সংখ্যক ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে টেঁটা, রাম এবং অন্যান্য ধারালো অস্ত্রও জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে আটক হওয়া তিনজনের মধ্যে রয়েছেন মেহেদী হাসান (২৫), বাচ্চু পেদা (৬০) ও রনি পেদা (১৮)।

নড়িয়া থানার উপ-পরিদর্শক অখিল রঞ্জন সরকার জানান, সকাল ৮টার দিকে উদ্ধারকৃত ককটেল, ধারালো অস্ত্র ও আটকদের নড়িয়া থানায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, গত বছর আগস্ট মাসেও একই এলাকা থেকে ৬০টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছিল, যা পুলিশি তৎপরতায় নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পাশের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারী কান্দি এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণে তিনজনের মৃত্যু ঘটে।

উপ-পরিদর্শক অখিল রঞ্জন সরকারের আরও তথ্য অনুযায়ী, নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে গত তিন দিনে মোট ২২টি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধ অস্ত্র ও ককটেল মজুতে থাকার ঘটনা শুধুমাত্র স্থানীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তাই এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নড়িয়ার পোড়াগাছা ব্যাপারী কান্দি এলাকা পূর্বেও ককটেল এবং অবৈধ অস্ত্রের কারণে পরিচিত। এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু স্থানীয় ব্যক্তি অবৈধ ককটেল উৎপাদন ও মজুতে লিপ্ত। কখনো কখনো দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের ঘটনায় মানুষ আহত বা নিহত হয়। এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশি সূত্র জানায়, অভিযান চলাকালীন সময়ে এলাকার ঘনবসতি এবং বাড়ির ভেতরের ছোট-ছোট কক্ষগুলো পরীক্ষা করা হয়। প্রত্যেকটি সম্ভাব্য লুকানো ককটেল ও অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য বাহিনী সতর্কভাবে কাজ করেছে। প্রতিটি আটককৃত ব্যক্তি তদন্তের আওতায় রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নড়িয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে এমন যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে যাতে বিপুল সংখ্যক ককটেল এবং অবৈধ অস্ত্র নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মধ্য দিয়ে ব্যবহার না করা যায়। উপ-পরিদর্শক অখিল রঞ্জন সরকার বলেন, এ ধরনের অভিযান শুধু অস্ত্র উদ্ধারের জন্য নয়, একই সঙ্গে অপরাধীদের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য অপরাধ রোধ করার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং স্থানীয় জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। তারা বলেন, স্থানীয়দের সচেতনতা এবং পুলিশের তথ্যবহুল সহযোগিতা অপরিহার্য। কেউ যদি ককটেল বা অবৈধ অস্ত্র সংক্রান্ত তথ্য জানে, তাদের পুলিশে জানানো উচিত যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

এই অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন কেবল অস্ত্র উদ্ধারের হিসাব রাখছে না, বরং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার জন্যও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এমন অভিযান ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ও সহিংসতা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত