ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ১২ খনি শ্রমিক নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৭ বার
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় ১২ খনি শ্রমিক নিহত

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার এক ভয়াবহ ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ১২ খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও সাতজন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রী ডেনিস শ্যামিহালের বরাত দিয়ে সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স প্রতিবেদনে জানা গেছে। আহত ও নিহত শ্রমিকরা মূলত জ্বালানি খাতের কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং তাদের বহনকারী বাসে হামলা চালানো হয়। মন্ত্রী জানান, এই হামলাটি নিঃসন্দেহে নিন্দনীয় এবং সরাসরি মানুষের ওপর লক্ষ্যবস্তু হামলার উদাহরণ।

হামলার সঙ্গে যুক্ত এই ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবার এবং সহকর্মীরা শোকাহত এবং আহতরা চিকিৎসাধীন। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী এবং জরুরি সেবা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেছেন। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে এবং বিশেষ করে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবকাঠামোতে রাশিয়ার হামলার কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও জীবনযাত্রায় অসুবিধা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত শনিবার গ্রিড সমস্যার কারণে ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলের সাড়ে তিন হাজার বহুতল ভবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। তীব্র শীত ও তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় কিয়েভের প্রায় এক হাজার আবাসিক ভবনে হিটার ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে বিপর্যস্ত করেছে এবং শীতের সময়ে অসহায় ও বিপন্ন মানুষদের জন্য আরও ঝুঁকি তৈরি করেছে।

এদিকে, শান্তি আলোচনার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে চেষ্টা চললেও তাত্ক্ষণিক ফলাফল দেখা যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় কতদিন রাশিয়া হামলা বন্ধ রাখবে তা নিয়ে ইউক্রেনীয় জনগণের মধ্যে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, সংঘাত বন্ধে কিয়েভ আবারও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আগামী বুধ ও বৃহস্পতিবার আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত হবে ওয়াশিংটন-মস্কো-কিয়েভের ত্রিপক্ষীয় আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব। তিনি জানান, গত মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে কিছু ফলপ্রসূ আলোচনা হলেও ভূখণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অন্যদিকে, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে ‘কৌশলগতভাবে পরাজিত’ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক সহায়তার নীতিতে ইউরোপের অর্থনীতি ও নিজস্ব স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর মতে, ইউরোপের ব্যর্থতা শুধু সামরিক ক্ষেত্রে নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবেও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সামরিক ও বেসামরিক মানুষদের ওপর ক্রমাগত হামলা চলছেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ শুধু শারীরিকভাবে নয়, মানসিকভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষত শ্রমজীবী মানুষেরা—যেমন এই খনি শ্রমিকরা—প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেল সরবরাহের অব্যবস্থা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো মানুষদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।

যুদ্ধকালীন এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে শান্তি স্থাপনের জন্য। বিশেষ করে ডিনিপ্রোপেট্রোভস্ক ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বেসামরিক মানুষদের সুরক্ষা প্রদান এবং জরুরি সেবা পুনরায় সচল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং দ্রুত মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের দাবি তুলেছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন হামলা শুধু খনি শ্রমিকদের জীবনকে বিপন্ন করেনি, বরং এটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংঘাতের তীব্রতা ও মানবিক বিপর্যয়কেও প্রকাশ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের বিকল্প খুঁজে বের করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শান্তি আলোচনার প্রতিটি পদক্ষেপই এখন অতীব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাধারণ মানুষদের জীবন ও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন এই আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করছে।

বর্তমান পরিস্থিতি মানবিক সংকট, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সমস্যা, এবং সংঘাতজনিত আঘাতকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইউক্রেনীয় সরকারকে একযোগে কাজ করতে হবে। ডিনিপ্রোপেট্রোভস্কের খনি শ্রমিকদের ওপর হামলা এরই এক চিত্র, যা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত