পাকিস্তান না খেললে আইসিসির ক্ষতি আড়াইশ কোটি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
পাকিস্তান না খেললে আইসিসির ক্ষতি আড়াইশ কোটি

প্রকাশ:  ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত দ্বিপাক্ষিক ম্যাচগুলোর মধ্যে ভারত-পাকিস্তান সিরিজের আলাদা জায়গা রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না থাকলেও প্রতিটি বড় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইভেন্টে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার ম্যাচের চাহিদা সর্বদা শীর্ষে থাকে। গত বছরের এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের ম্যাচের জন্য প্রতি ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রায় ১৪ লাখ থেকে ১৬ লাখ রুপি দিতে হয়েছিল। আর্থিক দিকটি বিবেচনায় রেখে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল এবং আইসিসি নিশ্চিত করছে, যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ একই গ্রুপে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভারত ও পাকিস্তান একই গ্রুপে রয়েছে।

এই সিরিজের অংশ হিসেবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ম্যাচটি খেলার কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তান সরকার হঠাৎ করে বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে বলা হয়েছে, ‘পাকিস্তান ইসলামিক রিপাবলিকের সরকার আইসিসি বিশ্ব টি-টোয়েন্টি ২০২৬–এ অংশগ্রহণের অনুমোদন প্রদান করছে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান ক্রিকেট দল মাঠে নামবে না।’

ক্রিকবাজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় দেড়শ কোটি জনসংখ্যার ভারত থেকে প্রতিটি ম্যাচ আইসিসির জন্য প্রায় ১০–১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ভারতীয় রুপিতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সমান। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ হলে এই আংকটি দ্বিগুণও হতে পারে। অর্থাৎ আইসিসির সম্ভাব্য ক্ষতি বাংলাদেশি টাকায় আড়াইশ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কেবল আইসিসি নয়, পাকিস্তানও বয়কটের কারণে আর্থিক ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। নির্ধারিত ম্যাচটি না খেলার ফলে ভারতের দল দুই পয়েন্ট অর্জন করবে। আইসিসির নিয়ম ১৬.১০.৭ অনুযায়ী, কোনো দল ম্যাচ না খেললে তার নেট রানরেটে প্রভাব পড়ে, তবে ভারতের নেট রানরেটে কোনো প্রভাব হবে না। এর ফলে পাকিস্তানের অবস্থান গ্রুপপর্বে বিপর্যস্ত হতে পারে এবং পরবর্তী খেলায়ও তাদের সূচি ও প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

আইসিসি অবশ্য পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট ও সারা বিশ্বের ভক্তদের কল্যাণের পক্ষে নয়। পাকিস্তানের লাখ লাখ ভক্তও এর মধ্যে রয়েছে। আমরা আশা করি পিসিবি দেশের ক্রিকেটের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিবেচনা করবে। এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং পিসিবি নিজেও এর একজন সদস্য ও সুবিধাভোগী।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অর্থনৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য অনন্য। শুধুমাত্র স্টেডিয়ামের দর্শক সংখ্যা বা টেলিভিশন রেটিং নয়, স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রচার অধিকার থেকে আসা রাজস্বের কারণে এই ম্যাচের আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বড়। ভারত-পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার প্রত্যাশায় স্পন্সররা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে, যা ক্রিকেট বোর্ড এবং আইসিসির জন্য স্থিতিশীল আয় নিশ্চিত করে।

বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়া শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ নয়, এটি দর্শক ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই দ্বিপাক্ষিক লড়াই যেন এক ধরণের সাংস্কৃতিক ও আবেগীয় ইভেন্ট। টুর্নামেন্টে দুই দলের মুখোমুখি না হওয়ায় খেলার উত্তেজনা ও দর্শক আকর্ষণ হ্রাস পায়, যা পরবর্তী ইভেন্টেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আইসিসি এবং ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের এই বয়কট সিদ্ধান্ত টুর্নামেন্টের নির্ভরযোগ্যতা ও সমবায়মূখী খেলার নৈতিকতার ওপর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। যদিও রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বোর্ডকে অবশ্যই আর্থিক, নৈতিক ও প্রতিযোগিতামূলক দিকগুলো একসাথে বিবেচনা করতে হয়।

এদিকে, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অনুপস্থিতি কেবল আয়ের ক্ষতি নয়, এটি ক্রিকেটের গ্লোবাল ফ্যানবেসে প্রভাব ফেলে। লাখ লাখ দর্শক টেলিভিশন বা অনলাইন মাধ্যমে খেলা দেখার জন্য প্রস্তুত থাকলেও ম্যাচ বাতিলের কারণে তারা হতাশ হয়। আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো এ ধরনের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করে থাকে।

সারসংক্ষেপে, পাকিস্তানের বয়কটের সিদ্ধান্ত আইসিসির জন্য আড়াইশ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এটি পাকিস্তান ক্রিকেটের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলবে। খেলোয়াড়, দর্শক এবং ক্রিকেটভিত্তিক অর্থনীতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত