নারী প্রার্থীর প্রাধান্য, উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী ৬৫%

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
নারী প্রার্থীর প্রাধান্য, উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী ৬৫%

প্রকাশ:  ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭৮। এর বাইরে এক জন হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রার্থী রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা ও প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নারী প্রার্থীদের মধ্যে ৬০ জন স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী, যা মোট নারী প্রার্থীর প্রায় ৭৭ শতাংশ। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৩৯ বছর বয়সী প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩০ জন। পেশাগত দিক থেকে ৬৫ শতাংশ নারী কর্মজীবী, যারা ব্যবসা, আইন, শিক্ষা, টিউশন, চিকিৎসা ও উদ্যোক্তা সহ নানা ক্ষেত্রে সক্রিয়।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ৩০০ আসনের জন্য অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ১৭। এর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৭৮, যা মোট প্রার্থীর মাত্র ৪ শতাংশের কম। দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬১ নারী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ১৭ জন। নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সর্বদলীয় আলোচনা শেষে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়নের প্রস্তাব রেখেছিল। ২৬টি দল ও জোট এই প্রস্তাবে সম্মত হলেও বড় দল বিএনপি ১০ নারীকে প্রার্থী করেছে, যা ৩.৪ শতাংশ। জামায়াতসহ ৩০টি দল কোনো আসনে নারী প্রার্থী দেয়নি।

নারী প্রার্থীদের পেশা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ কর্মজীবী। তাদের মধ্যে ব্যবসায়ী ১৬, আইনজীবী ও শিক্ষানবিশ ১০, টিউশনিস ৬, উদ্যোক্তা ৩, কৃষিকাজ ৪, শিক্ষক ৩, চিকিৎসক ৩, উন্নয়নকর্মী ২, রাজনৈতিক প্রশিক্ষক ১, বেসরকারি চাকরিজীবী ২ এবং কণ্ঠশিল্পী ১। বাকি ১১ জন গৃহিণী। এছাড়া কিছু প্রার্থী নিজস্ব উল্লেখযোগ্য সঞ্চয় ও সম্পদের মালিক। যেমন মানিকগঞ্জ–৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম মুন্নু, যিনি ব্যবসায়ী ও গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। তাঁর নগদ অর্থ ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে ৪১ লাখ টাকা। একইসঙ্গে তিনি ৯টি চলমান মামলার শিকার।

শিক্ষাগত যোগ্যতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্বশিক্ষিত ৩, অষ্টম শ্রেণি পাস ১, মাধ্যমিক পাস ৩, উচ্চ মাধ্যমিক পাস ৮, স্নাতক ২৪, ফাজিল পাস ১, স্নাতকোত্তর ৩৫, চিকিৎসা বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ১, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১। স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের মধ্যে গাজীপুর–২ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের সরকার তাসলিমা আফরোজের দুটি ডিগ্রি রয়েছে—এমএ (ইংরেজি) ও এলএলএম।

রাজধানী ঢাকায় ২০টি আসনের মধ্যে ১৭ নারী প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ জনই উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী। ঢাকা–১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের তাসলিমা আখতার এমফিল ডিগ্রিধারী, শিক্ষক ও আলোকচিত্রী। ঢাকা–৮ আসনের মেঘনা আলম পেশা হিসেবে রাজনৈতিক প্রশিক্ষক।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেরই নির্বাচনী পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। যেমন রংপুর-৬ আসনের তাকিয়া জাহান চৌধুরী ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। জামালপুর-৩ আসনের ফারজানা ফরিদ উদ্যোক্তা, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। একমাত্র হিজড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে মোছা আনোয়ারা ইসলাম রানী রংপুর-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

নারী প্রার্থীরা যোগ্যতা ও দক্ষতায় এগিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো এখনও নারীর নেতৃত্ব বিকাশে সক্রিয় নয় বলে মনে করেন শাসনপ্রক্রিয়া ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বিশেষজ্ঞ মীর নাদিয়া নিভিন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সংরক্ষিত আসন নারীর নেতৃত্ব বিকাশে কার্যকর নয়। রাজনৈতিক দলগুলোকে ২০৩০ সালের মধ্যে সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, তা না হলে নিবন্ধন বাতিলের মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

নির্বাচনে ২৫ বছর থেকে ৭৬ বছর বয়সী নারীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবচেয়ে কম বয়সী তিন প্রার্থী নরসিংদী–৫, ঢাকা–১৩ ও কুমিল্লা–৬ আসনের ত্রয়ী, এবং সর্বোচ্চ বয়সী ৭৬ বছর ৮ মাস বয়সী আখতার সুলতানা। নারী প্রার্থীদের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা নির্বাচনে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিবেশ তৈরি করছে, তবে ভোটার ও প্রশাসনের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ।

এই নির্বাচন প্রমাণ করছে, উচ্চশিক্ষিত ও কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, ভোটারদের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং পেশাগত দক্ষতার কারণে তারা নেতৃত্বে আরো দৃঢ় অবস্থান রাখতে পারছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত