১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাংলাদেশ পাবে জনগণ: জামায়াত আমির

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাংলাদেশ পাবে জনগণ: জামায়াত আমির

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। ক্ষমতা পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনা বদলের আহ্বান জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণ একটি নতুন বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এবারের নির্বাচন শুধু একটি দলকে ক্ষমতায় আনার নির্বাচন নয়, বরং এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক, নিরাপদ ও ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন।

সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল থেকেই মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই সমাবেশে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ এবার ভোটের মাধ্যমে পুরোনো রাজনীতি ও বংশানুক্রমিক ক্ষমতার ধারাকে প্রত্যাখ্যান করবে। তিনি বলেন, ‘রাজার ছেলে রাজা হোক—এই মতবাদে আমরা বিশ্বাসী নই। এই দেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপিকে এবার জনগণ লাল কার্ড দেখাবে। তার মতে, অতীতের ব্যর্থতা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মানুষ নতুন বিকল্প খুঁজছে। জামায়াতে ইসলামী সেই বিকল্প হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি আমরা নিজেরা হ্যাঁ ভোট দেব এবং দেশের জনগণকেও হ্যাঁ ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করবো। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে কক্সবাজার আলোকিত হবে।’ তিনি দাবি করেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কক্সবাজারের পর্যটন, মৎস্য, লবণ শিল্প ও সমুদ্রসম্পদকে কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলকে দেশের অন্যতম উন্নয়নকেন্দ্রে পরিণত করা হবে।

কক্সবাজারকে সম্ভাবনাময় অঞ্চল উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব থাকলে এই অঞ্চলের মানুষ কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের সুফল পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কথা দিয়ে কথা রাখি। আমরা বেঁচে থাকলে কোনো ওয়াদা বরখেলাপ হবে না, ইনশাআল্লাহ।’

নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়েও বক্তব্য দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। তার মতে, সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় সৎ ও আল্লাহভীরু নেতৃত্ব প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তনের নয়, এটি জাতির দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। এটি জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন।’ তার বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ন্যায়, ইনসাফ ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি।

জনসভায় বক্তব্যের একপর্যায়ে ড. শফিকুর রহমান তরুণদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা তৈরি হয়ে যাও। এই বাংলাদেশ তোমাদের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে।’ তিনি তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে যুবকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগে একই দিন সকালে তিনি কক্সবাজারের মহেশখালীতে আরেকটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুধু নিজেদের বিজয় চায় না; তারা চায় দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। তিনি বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলেই সেটাই হবে প্রকৃত বিজয়। আমিও সেই বিজয়ের অংশ হতে চাই।’

মুক্তিযোদ্ধা মাঠের জনসভায় জেলা জামায়াতের সভাপতি অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা সবাই আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।

এই সমাবেশে কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারাও জনসভায় অংশ নেন।

জনসভা শেষে জামায়াত আমির কক্সবাজার ও মহেশখালীর কর্মসূচি শেষ করে চট্টগ্রামের লোহাগড়ার পদুয়ায় আরেকটি জনসভায় যোগ দিতে যাত্রা করেন। তার এই ধারাবাহিক জনসভাগুলো নির্বাচনী মাঠে জামায়াতের সক্রিয় উপস্থিতি ও কৌশলগত প্রস্তুতিরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সার্বিকভাবে কক্সবাজারের জনসভায় জামায়াত আমিরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, দলটি আসন্ন নির্বাচনকে একটি মোড় ঘোরানো সুযোগ হিসেবে দেখছে। জনগণের ভোটের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ভোটাররা সেই আহ্বানে কীভাবে সাড়া দেন, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত