চোরাকারবার রুখতে কঠোর বার্তা দিলেন কায়সার কামাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬২ বার
চোরাকারবার রুখতে কঠোর বার্তা দিলেন কায়সার কামাল

প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নেত্রকোনা-১ আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণার দ্বাদশ দিনে মাদক ও চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। দুর্গাপুর উপজেলার দুর্গম গ্রাম থেকে শুরু করে বাজার ও জনপদে সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, জননিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে আপস করা হবে না। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, প্রত্যাশা এবং উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ঘিরে নতুন আশার কথা।

সোমবার ২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকেই কায়সার কামাল তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ধারাবাহিক গণসংযোগ শুরু করেন। দুর্গাপুরের গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নন্দেরছটি, দুবরাজপুর, গাঁওকান্দিয়া বাজার, জাগিরপাড়া বাজার, দক্ষিণ জাগিরপাড়া, ভাদুয়া বাজার, মুন্সিপাড়া বাজার এবং শংকরপুর বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে দিনব্যাপী পথসভা, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালান তিনি। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই দীর্ঘদিন পর এমন ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সংযোগ দেখে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পথসভা ও উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, দুর্গাপুর ও আশপাশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক ও চোরাচালান একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ শুধু যুবসমাজকে ধ্বংস করছে না, পুরো সমাজব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হয়ে সংসদে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে অপরাধ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসা ও চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িতদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব কাজে আসবে না—এমন কঠোর অবস্থানের কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থা, বর্ষাকালে চলাচলের কষ্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়নের অভাব এবং কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে তারা প্রার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অনেক অভিভাবক জানান, ভালো রাস্তা ও পরিবহন সুবিধা না থাকায় শিশুদের নিয়মিত স্কুলে পাঠানো কঠিন হয়ে পড়ে। আবার তরুণরা বলেন, এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় অনেকে ভুল পথে জড়িয়ে পড়ছে।

এসব কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন কায়সার কামাল। তিনি আশ্বাস দেন, নির্বাচিত হলে যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। গ্রাম ও বাজারকে যুক্ত করতে টেকসই সড়ক নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের কর্মমুখী করে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, শুধু আইন প্রয়োগ করলেই অপরাধ দমন সম্ভব নয়; কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোই অপরাধ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

প্রচারণার একপর্যায়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কৃষকই দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, অথচ ন্যায্যমূল্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে স্বচ্ছভাবে ভর্তুকি ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের জন্য খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলে জানান তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বাড়বে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

দিনব্যাপী প্রচারণায় কায়সার কামালের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তারা গ্রাম থেকে গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দলীয় বার্তা পৌঁছে দেন। অনেক জায়গায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই এগিয়ে এসে প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলেন, ছবি তোলেন এবং তাদের প্রত্যাশার কথা জানান। এই আন্তরিক যোগাযোগ নির্বাচনী মাঠে নতুন গতি এনেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেত্রকোনা-১ আসনে মাদক ও চোরাচালান দীর্ঘদিনের একটি সংবেদনশীল ইস্যু। সীমান্তবর্তী ভৌগোলিক অবস্থান এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতার কারণে অপরাধপ্রবণতা এখানে তুলনামূলক বেশি। এই বাস্তবতায় কায়সার কামালের কঠোর অবস্থানের ঘোষণা ভোটারদের একটি বড় অংশের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষ করে তরুণ ও অভিভাবকরা এই ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা শুনে আশাবাদী হচ্ছেন।

দিনের শেষভাগে শংকরপুর বাজারে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কায়সার কামাল বলেন, রাজনীতি তাঁর কাছে ক্ষমতার জন্য নয়, বরং মানুষের নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম। তিনি বলেন, “এই এলাকার মানুষ শান্তিতে থাকতে চায়, সন্তানদের সুস্থ ভবিষ্যৎ দেখতে চায়। আমি আপনাদের পাশে থেকে সেই লড়াই করব।” তাঁর এই বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে করতালির মাধ্যমে সমর্থন প্রকাশ পায়।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনী প্রচারণার দ্বাদশ দিনে দুর্গাপুরের দুর্গম জনপদে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের গণসংযোগ শুধু ভোটের হিসাবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে একটি খোলামেলা সংলাপের মঞ্চ। মাদক ও চোরাকারবারের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের ঘোষণা এই নির্বাচনী এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এবং আগামী দিনে ভোটের মাঠে এর প্রভাব কী হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত