দাউদকান্দির গৌরীপুরে আগুন, ২৫ দোকান পুড়ে ছাই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার
দাউদকান্দির গৌরীপুরে আগুন, ২৫ দোকান পুড়ে ছাই

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারে মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-হোমনা সড়ক সংলগ্ন পূর্ব পাশের কাঠপট্টি এলাকায় সকাল সাড়ে চারটার দিকে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আশেপাশের এলাকা দাহ্য শিখায় ঘেঁষে উঠে, আর মুহূর্তের মধ্যে তীব্র ধোঁয়া ও শিখা বাজারটিকে গ্রাস করে ফেলে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনের শুরুতেই দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পার্শ্ববর্তী গোমতী নদী থেকে পানি নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। কিন্তু ফার্নিচারের দোকানে রাখা দাহ্য রাসায়নিক এবং রঙের কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। পরে হোমনা ও চান্দিনা উপজেলা থেকে আরও ছয়টি ইউনিট এসে সহযোগিতা যোগায়। দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টার চেষ্টার পর সকাল সাতটার দিকে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।

ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, দাউদকান্দি, হোমনা ও চান্দিনা থেকে মোট নয়টি ইউনিট সম্মিলিতভাবে কাজ করেছে। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “আক্রান্ত দোকানগুলোতে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমাদের ইউনিটসমূহ রাতভর কঠোর পরিশ্রম করেছে যাতে ক্ষতি আরও বেশি না হয়।”

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনে মোট ২৫টি দোকান সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়েছে। এদের মধ্যে দশটি ফার্নিচারের দোকান, একটি ইলেকট্রিক ও এসি শোরুম, দুটি অটোরিকশা গ্যারেজ, চারটি মুদি দোকান এবং রমজান উপলক্ষে মজুত রাখা চাল ও খেজুরের গোডাউন রয়েছে। ফার্নিচার ব্যবসায়ী আমির হোসেন বলেন, “আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। ফার্নিচার মার্কেটে কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছিল, যা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।” প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় চার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল হালিম নিশ্চিত করেছেন, আব্দুল্লাহ নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কাজ করেছেন। তিনি জানান, “গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পুলিশ আগুন নেভাতে সহায়তা করেছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত চলছে।” তবে প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন নেভাতে সময়মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও সরঞ্জাম না থাকায় ক্ষতি আরও বেশি হতে পারে। বাজারের পথচারী ও ব্যবসায়ীরা জানান, আগুনের সময় তারা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে ঘর ও দোকান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর আশেপাশের এলাকায় ধোঁয়ার ঘন কুয়াশা নেমে আসে।

এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। গৌরীপুর বাজারের বেশির ভাগ দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দোকানদার ও গ্রাহকরা ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ফার্নিচারের দোকানগুলো বাজারের অন্যতম প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তারা আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সঙ্গে মোকাবিলা করতে হিমশিম খাবে।

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ তৎপরতায় এ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে এলেও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন। স্থানীয়রা মনে করছেন, বাজারের সীমানায় আগুন নেভানোর যথাযথ ব্যবস্থা থাকলে এ ধরনের বড় ক্ষতি আটকানো সম্ভব হতো। পাশাপাশি তারা প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আর্থিক সহায়তা, ক্ষতিপূরণ ও নতুন দোকান পুনঃনির্মাণের ব্যবস্থা কামনা করেছেন। তাদের বক্তব্য, “আমাদের জীবিকা একেবারে থমকে গেছে। আশা করছি প্রশাসন সহায়তা প্রদান করবে, না হলে আমাদের চলার পথ কঠিন হয়ে যাবে।”

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শিক্ষণীয় বিষয় হলো, দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ ও বাজার এলাকায় আগুন নেভানোর পূর্বপ্রস্তুতি অপরিহার্য। একদিকে যেমন ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা প্রশংসনীয়, তেমনি প্রশাসনিক তৎপরতার ঘাটতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, আগামীর জন্য সরকারি দিক থেকে আরও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে যাতে এমন ঘটনা পুনরায় না ঘটে।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এখনও মানসিকভাবে স্তব্ধ। বাজারের আগুন একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকেছে, অন্যদিকে মানুষের জীবনে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। তবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সক্রিয় প্রচেষ্টায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে একটি প্রাকৃতিক শোক ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শান্তি ও সান্ত্বনার উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত