প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন উদ্যোগ হিসেবে বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানি সম্পর্কিত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো আমদানি সংক্রান্ত তথ্য সহজ, স্বচ্ছ ও সমানভাবে সকলের জন্য উপলব্ধ করা, যাতে উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষার্থী, বাণিজ্য গবেষক, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরা নির্ভরযোগ্য তথ্যের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে পারেন। এনবিআর মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এবং উল্লেখ করে, ওয়েবসাইটের publication পোর্টালের customs লিংকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানির বিস্তারিত তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে রয়েছে এইচএস কোডভিত্তিক পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস, আমদানি করা পণ্যের পরিমাণ, ওজন এবং মূল্য সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ। এনবিআরের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই তথ্যগুলো নিয়মিত প্রকাশের ফলে সংশ্লিষ্টরা নির্ভরযোগ্য ডেটা ব্যবহার করতে পারবেন, যা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের তুলনামূলক দর এবং দামের ওঠানামা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, আমদানি প্রবণতা, পণ্যের গতিবিধি, বাণিজ্য কাঠামো এবং বন্ড সুবিধার আওতায় শিল্প উপকরণের প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করাও সহজ হবে।
এই তথ্যের মাধ্যমে বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে সহায়তা কার্যক্রমের মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। ব্যবসায়ী ও গবেষকরা সহজে জানতে পারবেন কোন পণ্যের আমদানি বেশি হচ্ছে, কোন পণ্যের দাম বাজারে ওঠানামা করছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের জন্য কোন পণ্য বা খাতে নজর দিতে হবে। এনবিআর কর্মকর্তারা জানান, এই উদ্যোগ দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করবে, কারণ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যবসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এনবিআর আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য সহজীকরণ ও ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের লক্ষ্যে এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে। প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানির তথ্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা সময়মতো বাজার বিশ্লেষণ করতে পারেন এবং নীতি নির্ধারকরা কার্যকর বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন করতে সক্ষম হন। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যটি সহজে অনুসন্ধানযোগ্য এবং ব্যবহারকারীর জন্য উপযোগীভাবে সাজানো হয়েছে।
নতুন এই তথ্যভাণ্ডার উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, বিনিয়োগকারী ও গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। এটি শুধু ব্যবসা ও অর্থনৈতিক গবেষণায় সহায়তা করবে না, বরং দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে। বিভিন্ন মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমও এই তথ্য ব্যবহার করে বাণিজ্যিক প্রবণতা, আমদানির ধারা ও বাজার বিশ্লেষণকে জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে পারবে।
এনবিআরের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও তথ্যভিত্তিক হবে। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, নিয়মিত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পণ্যের আমদানি, বাণিজ্যিক প্রবণতা এবং বন্ড সুবিধায় শিল্প উপকরণের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ সহজ হবে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণে আরও সক্ষম হবেন।
এনবিআরের ওয়েবসাইটের customs লিংকে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, প্রতিটি পণ্যের বিস্তারিত তথ্য যেমন পরিমাণ, মূল্য, ওজন এবং ক্লিয়ারেন্স সম্পর্কিত তথ্য পাওয়া যাবে। এটি দেশের বাণিজ্য নীতি প্রণয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ এবং রপ্তানি ক্ষেত্রে পরিকল্পনামূলক উদ্যোগ গ্রহণে সহায়ক হবে। এছাড়া, শিক্ষার্থী ও গবেষকরা এই তথ্য ব্যবহার করে ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক গবেষণা করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এনবিআরের এই তথ্য প্রকাশের উদ্যোগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজলভ্য এবং কার্যকর হবে। ব্যবসায়ীরা বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের বাস্তবতা জানতে পারবেন এবং তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। এনবিআর আশা করছে, এই উদ্যোগ ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ এবং নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এভাবে, এনবিআরের ওয়েবসাইটে এইচএস কোডভিত্তিক আমদানি তথ্য উন্মুক্তকরণ দেশের ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক করে তুলবে। এটি উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, গবেষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডার হিসেবে কাজ করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।