আসছে ২৫০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ সরকারী সুকুক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার
আসছে ২৫০০ কোটি টাকার বাংলাদেশ সরকারী সুকুক

প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ সরকার নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগ সংগ্রহের উদ্যোগ নিচ্ছে। ‘৭ম বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক’ নামে এই শরিয়াহভিত্তিক বন্ডটি বাজারে ছাড়া হচ্ছে। ইজারা সুকুকের এই প্রজেক্ট মূলত এই তিন জেলার গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, যা আইআরডিপিএনএফএল নামে পরিচিত, তার জন্য অর্থায়ন করবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও পানিসম্পর্কিত সুবিধা, রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত অবকাঠামো আধুনিকীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই সুকুকের মেয়াদ হবে সাত বছর। বিনিয়োগকারীরা ন্যূনতম ১০ হাজার টাকা থেকে অংশগ্রহণ করতে পারবেন এবং বার্ষিক ৯.৬০ শতাংশ হারে মুনাফা পাবেন। বিনিয়োগকারীদের মুনাফা প্রতি ছয় মাস অন্তর তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রদান করা হবে। এই সুযোগ দেশের সব স্তরের মানুষকে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেবে। দেশি ও প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তি এবং যেকোনো দেশি প্রতিষ্ঠান এই সুকুক কিনতে পারবেন।

এই সুকুক বিনিয়োগ করতে কোনও নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই। আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা তাদের বিদ্যমান ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজেই এ বিনিয়োগ করতে পারবেন। বিনিয়োগের জন্য দেশের যে কোনও বাণিজ্যিক ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা প্রদান করবে। সুকুকের নিলাম আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং অনুমোদনের ক্ষেত্রে গত বছরের ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও শরীয়াহ অ্যাডভাইজরি কমিটির সভাপতি ড. মো. কবির আহাম্মদের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ২০টি উপজেলার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের বিপরীতে এই সাত বছর মেয়াদি সুকুক ইস্যুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই উদ্যোগ দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

অর্থমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়েছে, সুকুকের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্যও ব্যবহার করা হবে। নতুন রাস্তা, সেতু, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পানীয় পানি ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এই বিনিয়োগ মূল উৎস হিসেবে কাজ করবে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে এবং এলাকার ব্যবসায়িক পরিবেশে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

বিনিয়োগকারীদের জন্য এ সুকুক একটি স্থিতিশীল এবং নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু আর্থিক রিটার্নই প্রদান করবে না, বরং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগও দেবে। ইজারা সুকুকের প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য অর্থনৈতিক পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে এই বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া, এই সুকুক ইস্যু দেশের পুঁজিবাজারে নতুন ধরনের বিনিয়োগের পথ খুলে দিচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও গাইডলাইন প্রদান করবে। আগ্রহীরা সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে এবং বিনিয়োগের সমস্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সুরক্ষিত থাকবে। সরকার আশা করছে, সুকুকের এই উদ্যোগ দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করবে এবং পল্লী অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে।

সার্বিকভাবে বলা যায়, ‘৭ম বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োগ সুকুক’ দেশের পল্লী উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিনিয়োগকারীরা শুধু আর্থিক মুনাফা পাবেন না, বরং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগও পাবেন। এটি দেশের শিক্ষাগত, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামোগত ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অপেক্ষায় ছিল, এবং এই সুকুকের মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণে বড় ধাপ নেয়া হলো।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত