প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দেশের শিল্প এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ইউএস স্ট্র্যাটেজিক ক্রিটিক্যাল মিনারেলস রিজার্ভ’ বা ‘প্রজেক্ট ভল্ট’ ঘোষণা করেছেন। তিনি এই উদ্যোগকে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম বেসামরিক খনিজ মজুদের কাঠামো তৈরি করবে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো খনিজ সরবরাহে কোনো সংকট সৃষ্টি হলে আমেরিকান শিল্প ও শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সোমবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “আমরা মার্কিন কৌশলগত সমালোচনামূলক খনিজ সম্পদ সংরক্ষণাগার তৈরির ঘোষণা দিচ্ছি। এটি এমন একটি মজুদ, যার কথা আগে কখনো শোনা যায়নি। ‘প্রজেক্ট ভল্ট’-এর মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করব যে কোনো সময় শিল্পে খনিজের ঘাটতি হবে না।” তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ বজায় রেখেছেন, তবে এবার শিল্প ও বেসামরিক সেক্টরের জন্যও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান জন ইয়োভানোভিচ বলেন, “ট্রাম্প একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আদেশ জারি করেছেন। এটি এমনভাবে গঠিত হয়েছে যাতে আমেরিকান করদাতাদের কোনো ভর্তুকি দিতে না হয়। এই রিজার্ভের মাধ্যমে আমরা একটি শক্তিশালী, স্বতন্ত্র এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত করতে পারব।”
প্রজেক্ট ভল্টের অর্থায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী, রপ্তানি-ইমপোর্ট ব্যাংক ১০ বিলিয়ন ডলার এবং বেসরকারি খাত ২ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, এই উদ্যোগ থেকে ঋণের সুদের মাধ্যমে আমেরিকান করদাতারা লাভবান হবেন। এই মডেলটি একটি পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারিত্বের উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত।
মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডগ বার্গাম বলেন, “আমাদের দেশের জন্য একটি শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অটো এবং প্রযুক্তি সেক্টরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের অভাব কমাতে প্রজেক্ট ভল্ট কার্যকর ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করি, এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিক জোটও অংশ নেবে। ইতিমধ্যেই ১১টি দেশের নাম চূড়ান্ত হয়েছে এবং আরও ২০টি দেশ যোগ দিতে আগ্রহী।”
প্রজেক্ট ভল্টের মাধ্যমে সংরক্ষিত খনিজ পদার্থের মধ্যে রয়েছে উন্নত উৎপাদন, শক্তি ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক্স এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন মনে করছেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। এ জন্য এই খনিজ মজুদের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা অত্যাবশ্যক।
ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “এটি একটি জাতীয় কৌশলগত পদক্ষেপ। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকলে একটি দেশের সার্বভৌমত্বও ঝুঁকিতে পড়ে। প্রজেক্ট ভল্টের মাধ্যমে আমরা শিল্প, অর্থনীতি এবং প্রযুক্তিতে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারব।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন উদ্যোগটি চীনসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীভূত সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরতাকে কমাতে এবং আমেরিকান শিল্পকে নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের প্রভাব ও সরবরাহ শৃঙ্খলে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রজেক্ট ভল্ট মার্কিন–ভারত সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেবল মার্কিন শিল্পকেই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারকেও প্রভাবিত করবে। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রজেক্টটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, রপ্তানি ও প্রযুক্তি খাতের জন্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এই রিজার্ভ শিল্পের জন্য পর্যাপ্ত খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত করবে, যাতে কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বা অভ্যন্তরীণ সংকটে শিল্প বা শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এটি বিশেষ করে অটো, ইলেকট্রনিক্স ও উচ্চ প্রযুক্তি শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন নীতিনির্ধারকরা চীনের সঙ্গে কেন্দ্রীভূত প্রক্রিয়াকরণের ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকি চিহ্নিত করেছেন। প্রজেক্ট ভল্ট এই ঝুঁকি কমাতে এবং আমেরিকান শিল্পকে স্বাধীনভাবে চলার সুযোগ দিতে একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি মার্কিন শিল্প এবং প্রতিরক্ষা সরবরাহের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হতে যাচ্ছে।
পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব ও কৌশলগত সহযোগিতার মাধ্যমে প্রজেক্ট ভল্টের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি মার্কিন শিল্প, অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।