পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার কর মাত্র ৫ শতাংশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার
পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মুনাফার কর মাত্র ৫ শতাংশ

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের সঞ্চয়পত্র গ্রাহকদের জন্য সুখবর দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্প্রতি প্রকাশিত নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর কাটা হবে ৫ শতাংশ। এটি আগের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিশ্চিততা তৈরি করতে এনবিআর আজ জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, পেনশনার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে কোনো উৎসে কর কাটা হবে না। তবে সাধারণ সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে পাঁচ লাখ টাকার সীমার মধ্যে বিনিয়োগ করলে অর্জিত মুনাফার ওপর ৫ শতাংশ কর প্রযোজ্য হবে। এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিভ্রান্তি এবং অসন্তোষ দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত জানুয়ারি মাসে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকরা অভিযোগ করেন, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হচ্ছে। এই খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি করে। বিষয়টি এনবিআরের নজরে আসার পর আজ স্পষ্টিকরণ জানানো হলো।

এনবিআরের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপনের প্রেক্ষিতে যেকোনো সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করলে অর্জিত মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ হবে। তবে শুধু পেনশনার সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকা অতিক্রম না করলে উৎসে করের হার শূন্য শতাংশ থাকবে। অন্যদিকে, আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১০৫ অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তির কোনো আয়বর্ষে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের পরিমাণ পাঁচ লাখ টাকার বেশি হয়, তাহলে অর্জিত মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে।

বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের অধীনে চার ধরনের সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এগুলো হলো পরিবার সঞ্চয়পত্র, পেনশনার সঞ্চয়পত্র, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র। পরিবার সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ব্যক্তি বিনিয়োগ করতে পারলেও, বাকি সঞ্চয়পত্রে ব্যক্তির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানও বিনিয়োগের সুযোগ পায়।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই স্পষ্টীকরণ অভূতপূর্ব স্বস্তি তৈরি করেছে। একজন ঢাকা শহরের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, “গত কয়েক মাস ধরে আমরা বিভ্রান্ত ছিলাম। জানুয়ারিতে আমাদের মুনাফার ওপর ১০ শতাংশ কর কাটা হয়েছিল। এনবিআরের এই চিঠি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির কারণ। আমরা এখন সঠিকভাবে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করতে পারব।”

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের জন্য সুবিধাজনকই নয়, বরং দেশের অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তারা বলেন, সঠিক কর নীতি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক এবং গ্রাহকদের মধ্যে সঞ্চয়習慣কে উৎসাহিত করবে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ, যারা সঞ্চয়পত্রের মুনাফা থেকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের নির্দিষ্ট অংশের ব্যয় সামলান।

এনবিআরের এই সিদ্ধান্ত সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। বিভিন্ন ফেসবুক ও টুইটার ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে সঠিক কর হার জানতে চাইছিলেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, সঠিক এবং সহজবোধ্য কর নীতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

অর্থনীতিবিদরা আরও উল্লেখ করেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর হ্রাস করলে দেশব্যাপী বিনিয়োগ বাড়বে এবং মানুষ তাদের সঞ্চয়কে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে আরও ঝুঁকবে। এর ফলে ব্যাংকিং খাত এবং জাতীয় সঞ্চয় ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।

এদিকে, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “এনবিআরের চিঠি অনুযায়ী আমরা আমাদের বিনিয়োগকারীদের বিস্তারিতভাবে জানাতে পারব। যে কোনো বিভ্রান্তি বা ভুল তথ্য দ্রুত সংশোধন করা হবে। আমাদের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকেও ইতিবাচক। সঠিক কর হার নির্ধারণ করলে বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ হবেন, যা দেশের অভ্যন্তরীণ সঞ্চয়কে বৃদ্ধি করবে। এর ফলে দেশের মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে উৎসাহ বাড়বে।

সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের জন্য এনবিআরের এই স্পষ্টীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সঞ্চয়習慣কে আরও উৎসাহিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে পেনশনার এবং পরিবারভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি একটি বিশাল স্বস্তির খবর।

এনবিআরের এই স্পষ্টীকরণ, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়, দেশের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে একটি নতুন দিশা নির্দেশ করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে, knowing যে পাঁচ লাখ টাকার সীমার মধ্যে তাদের মুনাফা করের সঠিক হার অনুযায়ী হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত