প্রকাশ: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফ্রিজ দীর্ঘসময় খাবার সংরক্ষণের জন্য উপকারী হলেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কিছু খাবার দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রেখে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। নিয়মিত যারা এক সপ্তাহের জন্য রান্না করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন, তাদের জন্য বিশেষ সাবধানতার প্রয়োজন। কারণ, ফ্রিজে রাখার ফলে শুধু স্বাদ ও পুষ্টিমান নষ্ট হয় না, কিছু খাবারে জন্ম নেয় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যা খাওয়ার মাধ্যমে শরীরে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্যানসারের সম্ভাবনাও থাকে।
ভারতীয় স্বাস্থ্য সংবাদপত্র এবং আন্তর্জাতিক গবেষণার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিছু সাধারণ খাবার, যা ফ্রিজে দীর্ঘসময় রেখে খেলে শরীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রান্না করা ভাত দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখার ফলে তা স্বাদহীন ও আঠালো হয়ে যায়। ডিফ্রস্ট করার পর ভাতের এই পরিবর্তন শরীরের হজম ক্ষমতাকে ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয় এবং পুষ্টিমানও নষ্ট হয়। এর সঙ্গে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই ফ্রিজে রাখা ভাত পরবর্তী দিনে খাওয়া নিরাপদ নয়।
ডিমও এমন একটি খাবার, যা ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে তার পুষ্টিগুণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নিচে থাকা অবস্থায় ডিমে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরে মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পেট সংবেদনশীল, তাদের জন্য ফ্রিজে রাখা ডিম খাবার পরামর্শযোগ্য নয়।
বিটরুট বা বিটের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। বিটে থাকা নাইট্রিক অক্সাইড বারবার গরম করার ফলে নাইট্রাইট এবং পরে নাইট্রোসামিনে রূপান্তরিত হয়, যা একটি প্রমাণিত কার্সিনোজেনিক যৌগ। তাই পালঙ্ক বা বিটের মতো নাইট্রিক অক্সাইড সমৃদ্ধ সবজি বারবার গরম করে খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর।
মুরগির মাংস এবং মাশরুমও ফ্রিজে দীর্ঘ সময় রাখা বা বারবার গরম করে খাওয়া উচিত নয়। মুরগির মাংসে থাকা প্রোটিনের কম্পোজিশন বারবার গরম করার ফলে বদলে যায়। এতে খাবার হজম করতে সমস্যা হয় এবং অনেক সময় মানুষকে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিতে ফেলে। মাশরুমে থাকা ফাইবার এবং এনজাইমও বারবার গরম করার ফলে নষ্ট হয়ে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিশেষজ্ঞরা ঘন ঘন ফ্রিজ থেকে বের করে গরম করা মাশরুম খাওয়ার পরামর্শ দেন না।
পালংশাকও বারবার গরম করে খাওয়া উচিত নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পালংশাক গরম করার প্রক্রিয়ায় কার্সিনোজেনিক যৌগ তৈরি হয়, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, যাদের পালংশাক গরম করে খাওয়ার অভ্যাস আছে, তারা অন্যদের তুলনায় ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের সময়ে এই পাঁচটি খাবারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি। শুধু স্বাদ ও পুষ্টিমানই নয়, শারীরিক সুস্থতাও বিপন্ন হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাসি খাবার বা দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা খাবার খাওয়ার অভ্যাস থেকে বিরত থাকা স্বাস্থ্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যস্ততার কারণে একবারে প্রচুর রান্না করা এবং ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সাধারণ প্রবণতা। তবে খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার জন্য অবশ্যই জানা উচিত কোন কোন খাবার ফ্রিজে দীর্ঘসময় রাখার জন্য অনুপযুক্ত। নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারসহ অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
তাই খাদ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। নতুন রান্না করা খাবারকে সংরক্ষণ করার সময় সময়মতো খাওয়া এবং দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখার অভ্যাস পরিহার করা স্বাস্থ্য রক্ষার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখতে খাদ্যসংক্রান্ত সচেতনতা আবশ্যক।
এছাড়া ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের সময় খাদ্যের ধরন অনুযায়ী সঠিক প্যাকেজিং, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শীতল বা ঠান্ডা খাবার যেমন ভাত, ডিম, মুরগি বা পালংশাককে দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখলে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের উচিত নতুন রান্না করা খাবার দ্রুত খাওয়া এবং ফ্রিজে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা।
ফলস্বরূপ, খাদ্য সংরক্ষণে অতি সতর্কতা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অপরিহার্য। ফ্রিজে রাখার অভ্যাস যদি স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে, তবে তা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য সচেতন সমাজ গঠনের জন্য এই বিষয়গুলো জানা এবং প্রয়োগ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাসি বা দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য নয়, পরিবার এবং সমাজের সুস্থতার জন্যও প্রভাব ফেলে।