নির্বাচনে রাজনৈতিক পক্ষপাত নিলে বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাহিনীর সদস্যরা রাজনৈতিক এজেন্ডায় জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য যদি কোনো ব্যক্তি, দল বা রাজনৈতিক এজেন্ডার সঙ্গে জড়িত হন, তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখাবে না।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সরকারের অবস্থান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এবং বিশেষ করে কোস্ট গার্ডের ভূমিকা স্পষ্টভাবে উঠে আসে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের এই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রশ্নাতীত হতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাহিনীর কোনো সদস্য যদি ব্যক্তিগত বিশ্বাস, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা কোনো দলের প্রতি পক্ষপাত দেখান, তাহলে তা শুধু নির্বাচনকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে না, বরং রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও বাহিনীর ভাবমূর্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবশ্যই সংবিধান ও আইনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে, কোনো রাজনৈতিক শক্তির প্রতি নয়। এই নীতির ব্যত্যয় ঘটলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না—সে যত উচ্চপদস্থই হোক না কেন।

কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, দেশের উপকূলীয় এলাকা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ, অস্ত্র ও মাদক চোরাচালান দমন, মানবপাচার রোধ, ডাকাতি ও জলদস্যুতা নির্মূলে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। নিয়মিত টহল কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্ঘটনাকবলিত নৌযান ও নাবিকদের উদ্ধারেও বাহিনীটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে তিনি মন্তব্য করেন।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের অবদান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উপকূলীয় জনগণকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা, শীতবস্ত্র ও লাইফ জ্যাকেট বিতরণে কোস্ট গার্ড প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নেও কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যও দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ইতোমধ্যে ১০০টি প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন ও গণভোটের সময় কোনো ধরনের সহিংসতা, ভয়ভীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। একই সঙ্গে বাহিনীর সদস্যদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের সময় মানবাধিকার, আইন ও পেশাগত নৈতিকতা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৪০ জন সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নিজ হাতে এসব পদক তুলে দেন এবং পদকপ্রাপ্ত সদস্যদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্বের স্বীকৃতি নয়, বরং পুরো বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের প্রতীক।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হকসহ বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কোস্ট গার্ডের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, আধুনিকায়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন সামনে রেখে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই কড়া বক্তব্য সরকারের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। অতীত অভিজ্ঞতায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই সরকার আগেভাগে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অবস্থান বাস্তবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা গেলে নির্বাচন ও গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বাড়বে।

সব মিলিয়ে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার এই হুঁশিয়ারি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে—রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও নিরপেক্ষতা ছাড়া অন্য কোনো অবস্থান গ্রহণযোগ্য হবে না।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত