ফিফা প্রধান রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭০ বার
ফিফা রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্টিনো রাশিয়ার চার বছরের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর মতে, এই নিষেধাজ্ঞা কিছু অর্জন করেনি বরং হতাশা ও ঘৃণা বৃদ্ধি করেছে এবং রাশিয়ার খেলোয়াড়দের ক্ষতির শিকার করেছে। ইনফান্টিনোর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে, যেখানে রাশিয়ার ক্লাব ও জাতীয় দল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে ফিফা ও ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইউইএফএ) প্রতিযোগিতা থেকে স্থগিত রয়েছে।

স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্টিনো বলেন, “রাশিয়ার ছেলে-মেয়েরা যদি ইউরোপের অন্যান্য অংশে ফুটবল খেলতে পারে, তা তাদের জন্য সহায়ক হবে। কোনো দেশকেই কখনো তাদের রাজনৈতিক নেতাদের কর্মকাণ্ডের জন্য ফুটবল খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমরা চাই যে, সব খেলোয়াড় যোগাযোগ রাখতে পারে এবং ক্রীড়ার মাধ্যমে বন্ধুত্ব ও সংহতি বজায় থাকে।” তিনি আরও বলেন, “খেলোয়াড়দের জন্য রাজনৈতিক দায়িত্ব আরোপ করা উচিত নয়। তাদের শৈশব ও ক্যারিয়ার এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়, যা তাদের অজ্ঞাত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তৈরি হয়েছে।”

ইনফান্টিনোর এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনাও শুরু হয়েছে। ইউক্রেনের ক্রীড়া মন্ত্রী মাতভি বিডনি ইনফান্টিনোর বক্তব্যকে অদায়িত্বশীল ও শিশুপ্রেমহীন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “রাশিয়ার খেলোয়াড়দের খেলার অধিকার রাখার দাবিটি ফুটবলকে বাস্তবতার বাইরে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সাধারণ শিশুদের হত্যা ও গণহত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। ফুটবলকে এই মানবিক সংকটের বাইরে দেখানো যায় না।”

অন্যদিকে, ইউইএফএর সভাপতি আলেকস্যান্ডার সেফেরিন আরও স্পষ্টভাবে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “রাশিয়াকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার আগে অবশ্যই ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ হওয়া উচিত। কোনো খেলোয়াড়ই তাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থার জন্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না, যতক্ষণ এই সংঘাত চলছে।”

ইনফান্টিনো এই বিতর্কিত মন্তব্যের পাশাপাশি ফিফার ২০২৬ বিশ্বকাপ ড্র-এর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্তেরও সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, “বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যারা কিছু করে, তাদের পুরস্কৃত করা যায়। আমরা যা করতে পারি তা করা উচিত, এবং ক্রীড়া এবং ক্রীড়াবিদদের প্রেরণায় আমরা শান্তি এবং সংহতির বার্তা পৌঁছাতে পারি।”

ফিফার এই পদক্ষেপ এবং ইনফান্টিনোর মন্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া কূটনীতি ও রাজনৈতিক সংযোগের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাশিয়ার খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরে আসার সম্ভাবনা খোলার দাবিতে ফিফার প্রধানের এই অবস্থান সমর্থন পাচ্ছে কিছু খেলোয়াড় এবং ফুটবল অঙ্গনের কিছু সংগঠনের কাছে। তবে, ইউক্রেন এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে এটি তীব্র নিন্দার মুখে পড়েছে। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক সংঘাতের মধ্যে ক্রীড়াকে প্রায়শই ব্যবহৃত হলেও, এটি নিরপেক্ষ থাকলেও মানবিক ও ন্যায়িক সংবেদনশীলতাকে অগ্রাহ্য করতে পারবে না।

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে এই ঘটনা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফিফার কাছে এটি একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—কীভাবে খেলোয়াড়দের অধিকার রক্ষা করা যায়, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং যুদ্ধবিধি রক্ষা করা যায়। অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন, ইনফান্টিনোর মন্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া রাজনীতিতে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে, যেখানে খেলাধুলা, নীতি এবং কূটনীতি একসাথে জড়িত হয়েছে।

ফুটবল বিশ্বে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া নাকি রাখা হবে—এটি আগামী মাসগুলোতে ফিফা এবং ইউইএফএর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। এই পরিস্থিতি শুধু রাশিয়ার খেলোয়াড়দের জন্য নয়, ইউক্রেনসহ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্প্রদায়ের জন্যও ভবিষ্যতের ক্রীড়া নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com