প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা-১১ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশে কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং ক্ষমতার জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, সেই সিদ্ধান্ত জনগণই গণভোটের মাধ্যমে নেবে। মঙ্গলবার ঢাকার বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনি প্রচারকালে তিনি এ কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনসহ গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তার মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিতকরণ এবং একটি স্বাধীন ও কার্যকর নির্বাচন কমিশন গঠনের পথ সুগম হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে ঠিক হবে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বাংলাদেশ কোন পথে এগোবে। সংবিধানে কী ধরনের মৌলিক সংস্কার আসবে, তা নির্ধারণ করবে জনগণের রায়। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে এবং সংবিধানের কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন নিশ্চিত হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি সরকারকে ভেতর থেকে দেখেছি। জানি কেন বাংলাদেশে দুর্নীতি হয় এবং কোথায় সিস্টেমে গলদ রয়েছে। ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির মূলোৎপাটন, দখলদারিত্ব দূরীকরণ এবং বৈষম্য কমানোই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণের জন্য প্রতিশ্রুত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল সরকার গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা জনগণের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, তা এখনও পূরণ হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব পেলে সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও একই মনোবল ও দায়বদ্ধতায় কাজ চালিয়ে যাবেন।
নাহিদ ইসলাম জনগণকে আস্থা ও দায়িত্বের সাথে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণভোট ও নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষই নির্ধারণ করবে কাদের নেতৃত্বে দেশ নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে চলবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হলে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া স্থানীয় বিএনপি ও ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, যারা নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও গণভোট সংক্রান্ত প্রস্তাব সমর্থন করেন। নাহিদ ইসলাম সব শ্রেণি ও পেশার মানুষকে ভোটের গুরুত্ব অনুধাবন করে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সুশাসন ও সংবিধানের সংস্কারের পথে এগোতে পারে।
নির্বাচন ও গণভোটের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে প্রগতিশীল পরিবর্তন আনার আশা ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হলে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। দেশের সমৃদ্ধি, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং ন্যায্য ও কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তিনি জনগণকে ভোটকেন্দ্রে সচেতন ও সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে যে, দেশের ভবিষ্যৎ ও সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে সাধারণ জনগণই সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ। এই নির্বাচনী প্রচারণা মূলত জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণভোটের গুরুত্ব বোঝানোর উপর কেন্দ্রিত। তিনি বলেন, জনগণই নির্ধারণ করবে কে রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালন করবে এবং কিভাবে ক্ষমতার শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।