তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার
তারেক রহমান কটূক্তি প্রতিবাদ

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা কটূক্তিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন জেলা বিএনপির সদস্য-সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের উমেদপুর গ্রামের আবাসন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এ আল্টিমেটাম দেন।

বিস্তারিত জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে ইন্দুরকানী উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি আব্দুল হাই একটি মিটিংয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা বিএনপি সদস্য-সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করেছেন।

এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, “আমার দলের চেয়ারম্যানকে নিয়ে একজন উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত নেতা কীভাবে এমন রুচিহীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করার সাহস পান, তা কেবল অবিশ্বাস্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অবশ্যই তার বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন এবং জনগণের সামনে ক্ষমা চাইবেন।” তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বক্তব্য সামাজিক সহমর্মিতা ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যপূর্ণ হতে পারে।

এ সময় তিনি পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাসুদ সাঈদীর নিকটও বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, “দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষ এই ধরনের কটূক্তিকে কখনো গ্রহণ করবে না। তাই দ্রুত ন্যায্য ও প্রকাশ্যভাবে ক্ষমা চাওয়া অপরিহার্য।”

উঠান বৈঠকে বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। ইন্দুরকানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আ. রাজ্জাক হাওলাদার, জেলা কৃষকদলের সভাপতি বাচ্চু, যুবদল নেতা রিয়াজ সরদার, উপজেলা যুবদলের সভাপতি আতিকুর রহমান, শ্রমিক দল সভাপতি আবুল কালামসহ অন্যান্য নেতা ও অঙ্গসংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তারা একত্রে দলের চেয়ারম্যানের মর্যাদা রক্ষায় সহমর্মিতা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সময়সীমার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপি নেতারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কখনো কখনো নেতাদের অপমানজনক বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণের মনোবল হ্রাসের চেষ্টা করে। তবে জনগণ ও দলীয় নেতৃত্বের জোরালো প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এটি প্রতিহত করা সম্ভব। তাদের দৃষ্টিতে, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম হল একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দৃষ্টান্ত, যা প্রকাশ করে যে, দেশের রাজনৈতিক নেতাদের উপর অবমাননা সহজভাবে নেওয়া হবে না।

বিএনপির নেতৃত্ব আরও বলেন, রাজনৈতিক উত্তাপ, সমালোচনা ও পার্থক্য স্বাভাবিক হলেও এটি কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ ও নেতার মর্যাদা হ্রাস করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ রক্ষার জন্য এমন প্রতিবাদ জরুরি। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট জামায়াত নেতা এই আল্টিমেটাম মেনে আন্দোলন-সংক্রান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করবেন।

স্থানীয় জনসাধারণও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং তাদের মধ্যে বিস্তৃত সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে। এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি কটূক্তি ও অবমাননা দেশীয় রাজনীতির ন্যায়পরায়ণ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তারা প্রত্যাশা করছেন, ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ভবিষ্যতে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

উঠান বৈঠক ও স্থানীয় সমাবেশে বিএনপির নেতারা আবারও তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দলের চেয়ারম্যান ও নেতৃত্বের মর্যাদা রক্ষায় তারা সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রাখবেন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্তিপূর্ণ, সংহত ও ন্যায়সঙ্গত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম রাজনৈতিক নেতাদের মর্যাদা ও রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে কাজ করবে। এটি সাধারণ জনগণকে দেখাবে যে, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অবমাননামূলক মন্তব্য সহ্য করা হবে না এবং প্রকাশ্যভাবে ক্ষমা চাওয়া জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত