প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বগুড়ায় পলিটেকনিক শিক্ষার্থীরা বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দশম গ্রেডে চাকরিতে প্রবেশের অনুমতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের লিচুতলা মোড়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। তিন ঘণ্টা স্থায়ী এই অবরোধের কারণে মহাসড়কের চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়, এবং রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার যানবাহনে থাকা যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, কারিগরি শিক্ষায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার পর তারা দীর্ঘ সময় ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যে যোগ্যতা অর্জন করেছেন তা উপেক্ষা করে সাধারণ বিএসসি ডিগ্রিধারীদের একই গ্রেডে চাকরির সুযোগ দেওয়া একেবারেই বৈষম্যমূলক। তাদের দাবি, আগে কারিগরি খাতে দশম গ্রেডের পদগুলো শুধুমাত্র ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। হঠাৎ করে নীতিমালা পরিবর্তন করে বিএসসি ডিগ্রিধারীদেরও একই গ্রেডে নিয়োগের অনুমতি দেয়ায় ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে এবং তাদের কর্মক্ষেত্র সংকুচিত হবে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, কারিগরি শিক্ষার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে এবং ভবিষ্যতে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের প্রাপ্য সুযোগ হরণ হবে। তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান যে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করা হোক। অন্যথায় আন্দোলন আরও কঠোর আকার নেবে। যদিও অবরোধকালে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন, তবে প্রশাসনের অনুরোধে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। মহাসড়ক পুনরায় চলাচলের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংলাপে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ প্রমাণ করে যে কারিগরি শিক্ষা ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তি খাতে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা সংরক্ষিত করা প্রয়োজন।
পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের এ ধরনের সচেতন আন্দোলন শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং ন্যায়সঙ্গত নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে দেশের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ দাবি করছে, অন্যদিকে প্রশাসন ও শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তারা ন্যায়িক সমাধান চাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রীরা এবং পরিবহন খাতের লোকজনের মধ্যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। মহাসড়ক বন্ধ থাকার কারণে যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে চরম ব্যাঘাত দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থী ও দেশের অর্থনৈতিক খাতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
অবশেষে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আন্দোলন স্থগিত করলেও, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলনের প্রয়াস চালিয়ে যাবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, দেশে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অধিকার ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারের নীতিমালার পুনঃসমীক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অবলম্বন করা প্রয়োজন।