মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে মার্কেট দখল নিয়ে নিহত একজন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
শ্রীনগর মার্কেট দখল হত্যাকাণ্ড

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বালাশুর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় আলমগীর (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরও ৮ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাটি স্থানীয় জনগণ এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে ভয় ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আলমগীর ও তার ভাই তমিজউদ্দিন যৌথভাবে বালাশুর এলাকায় ‘তমি মার্কেট’ নামের একটি মার্কেট নির্মাণ কাজ শুরু করেন। কিন্তু ওই জমির ওয়ারিশ দাবি করে হান্নান হাজী, মানিক ও তাপস নামে কয়েকজন ব্যক্তি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার ফলাফলে ব্যর্থ হয়ে তারা সরাসরি মার্কেটটি দখল করার চেষ্টা শুরু করে।

মঙ্গলবার সকালে হান্নান ও মানিক গং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মার্কেট দখল করতে আসলে আলমগীর বাধা দেন। এসময় তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে হাসপাতালের গেটে তার ওপর দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলমগীর মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবং নিহতের স্বজনরা বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-দোহার সড়ক অবরোধ করেন। বালাশুর এলাকায় হান্নান হাজীর মার্কেটের সামনে অগ্নিসংযোগ ঘটানোর ঘটনাও ঘটে, যা পুরো এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে মোতায়েন হন। প্রায় এক ঘণ্টা হস্তক্ষেপের পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জুয়েল মিঞা জানান, হত্যাকাণ্ডটি মূলত জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”

স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ড এলাকার ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করেছে। মার্কেট দখল এবং জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরনের নৃশংসতা পুনরায় এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ এবং দ্রুত বিচার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয়রা মনে করছেন, আদালতের মাধ্যমে যথাযথ ন্যায় প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের সংঘাত চলতে পারে। নিহত আলমগীর ছিলেন এলাকায় সুপরিচিত এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। তার মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করছেন, দ্রুত বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

এ ঘটনায় জনগণ উদ্বিগ্ন যে, জমি ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কলহ নয়, বরং এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে। স্থানীয়রা প্রশাসনকে অনুরোধ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এমন নৃশংসতা প্রতিরোধের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

শ্রীনগরের এই হত্যাকাণ্ড এবং মহাসড়ক অবরোধ ঘটনাটি শুধু স্থানীয়দের জন্য নয়, দেশের অন্যান্য অংশের জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি দেখায় যে, জমি দখল এবং ব্যবসায়িক সংঘাত কেবল ব্যক্তি নয়, এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার উপরও প্রভাব ফেলছে। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত