প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান বাড়ি কলেজ রোডে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বিএনপি কখনোই ধর্মকে ক্ষমতার লোভে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেনি। বরং মানুষের অধিকার, মর্যাদা এবং ন্যায়ের রাজনীতিতেই বিশ্বাসী এই দল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ এবং দেশকে উন্নয়নের শীর্ষে নিয়ে যাওয়া।
রবিন বলেন, শুধু মুখে পরিবর্তনের কথা বলা যথেষ্ট নয়, বাস্তব পরিবর্তন আসে কঠোর পরিশ্রম ও দায়বদ্ধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের তরুণদের দিনরাত পরিশ্রম করতে হবে, তাদের কর্মমুখী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ এলাকার বাস্তব পরিবর্তন আনবে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।”
তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য বিএনপির প্রণীত নীতি ও পরিকল্পনার বিবরণও তুলে ধরেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি ৩১ দফা নীতি এবং ৯টি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে পারলে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
রবিন বলেন, পরিকল্পনার আওতায় মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, বাবাদের জন্য কৃষি কার্ড, সন্তানদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কমিউনিটি সেন্টার ও হাসপাতাল নির্মাণ, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ তৈরি, মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসার নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া নদী ও পরিবেশ রক্ষায় ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং পার্ক নির্মাণ, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও আলেম সমাজের মর্যাদা বৃদ্ধিসহ দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এছাড়া রবিন স্থানীয় জনগণের জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কদমতলী এলাকায় ডেঙ্গুমুক্ত শহর গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকায় জনগণের কাছ থেকে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধানেই তার ঘোষিত ২০টি অঙ্গীকারের ভিত্তি নির্ধারিত হয়েছে। ছোটখাটো সমস্যা এলাকাবাসী মিলেমিশে সমাধান করতে পারবে, কিন্তু বৃহৎ সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
পথসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী মীর হোসেন মীরু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কদমতলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক আবু নাসের ফকির, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেরাজুল ইসলাম বাবুল এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর খালেদা আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন আলমগীর খান লিপু এবং সঞ্চালনা করেন আনোয়ার হোসেন স্বপন ও লুৎফুল কবির চৌধুরী।
রবিনের বক্তব্যে দেশপ্রেম, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং স্থানীয় উন্নয়নের বিষয়গুলোকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তিনি বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে শুধুমাত্র নির্বাচনী প্রচারণা নয়, কার্যকরী পদক্ষেপ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় মানুষদের জন্য বাস্তব উন্নয়ন এবং সুযোগ সৃষ্টি করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।
তিনি তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান, রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে সমাজের ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, শিক্ষিত, স্বাস্থ্যসম্মত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সব স্তরের মানুষের একযোগিতার গুরুত্বের উপর জোর দেন। রবিন বলেন, “যে কাজ করি, তার মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে পারলে জনগণও সহমত পোষণ করবে, তা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে।”
পথসভায় অংশগ্রহণকারীরা রবিনের পরিকল্পনা এবং নির্বাচনী অঙ্গীকারের বিষয়গুলোকে উৎসাহজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। স্থানীয়রা বলেন, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ রক্ষা কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে।