প্রকাশ: ১৫ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রয়াসে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট ও দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। মঙ্গলবার ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত রাজনৈতিক সংলাপের ১৪তম দিনে তিনি বলেন, সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে— এখনো যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি, তা দ্রুত নিষ্পত্তি করে জাতীয় সনদ তৈরির পথে এগিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “মানুষ এখন পরিবর্তন চায়, স্থিতিশীলতা চায়। এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে হবে। দায়িত্বশীলতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি স্পষ্ট করে দেন, জাতীয় ঐকমত্য গঠনের প্রক্রিয়ায় ধীরগতি জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি তার আহ্বান, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য সত্ত্বেও একটি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর রূপরেখা দ্রুত প্রস্তুত করতে হবে। “আমাদের সামনে ব্যর্থ হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এই কমিশন কোনো বিচ্ছিন্ন সত্তা নয়, বরং এটা গঠিত হয়েছে সবার অংশগ্রহণে। যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটি কেবল একটি পক্ষের নয়—সমগ্র রাজনৈতিক ব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হবে,” — বলেন তিনি।
উল্লেখযোগ্য যে, চলমান এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে দেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দল ও অংশীজন। দ্বিতীয় পর্যায়ের এই সংলাপে ইতোমধ্যে কিছু মৌলিক ও কাঠামোগত বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা তৈরি হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, “জাতীয় ঐকমত্য মানে কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর বোঝাপড়া নয়—এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। একে সফল করতে হলে অংশগ্রহণ, সমন্বয় ও নিষ্ঠা—এই তিনটি বিষয়কেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
তিনি এই প্রক্রিয়াকে একদিকে যেমন রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন ভিত্তি হিসেবে দেখছেন, তেমনি অপরদিকে এটিকে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের ঐতিহাসিক সুযোগ বলেও বিবেচনা করছেন। তার ভাষায়, “এখন সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ভবিষ্যৎ ইতিহাসে আমাদের কেউ ক্ষমা করবে না।”
জাতীয় ঐকমত্য গঠনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই কমিশনের সংলাপ ইতোমধ্যেই দেশের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচিত। অধ্যাপক রীয়াজের বক্তব্য নতুন করে প্রত্যাশা জাগিয়েছে— এই যে বহুমাত্রিক মতপার্থক্যের মধ্যেও সমঝোতার আলো খোঁজা, সেটি যেন শেষ পর্যন্ত সফলতায় পৌঁছায়।
এই আলোচনার ভবিষ্যৎ পর্বগুলোতে আরও কী অগ্রগতি হয়, তা এখন জাতীয় পর্যায়ের আগ্রহ ও গুরুত্বের কেন্দ্রে রয়েছে। সবাই তাকিয়ে আছে— কোনো সিদ্ধান্তই যেন আর বিলম্বিত না হয়।