গাদ্দাফির ছেলে সাইফকে হত্যা করলো চার মুখোশধারী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৮ বার
লিবিয়ার সাইফ আল-ইসলাম হত্যা

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

লিবিয়ার সাবেক শাসক কর্নেল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি পশ্চিম লিবিয়ার জিনতান শহরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাতের ওই হত্যাকাণ্ড ঘনিষ্ঠভাবে পরিকল্পিত ছিল এবং এতে চারজন মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি সরাসরি লিবিয়ার প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। নিহত সাইফ আল-ইসলাম রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল।

স্থানীয় সময় অনুযায়ী, সাইফকে তার নিজ বাসভবনে হত্যা করা হয়। তার আইনজীবী খালেদ আল-জাইদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন, যদিও তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। একই সঙ্গে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় লিবিয়ায় শান্তি আলোচনায় গাদ্দাফিপন্থিদের প্রতিনিধিত্বকারী আবদুল্লাহ ওথমান আবদুর রহিম জানান, হত্যাকাণ্ডটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হামলাকারীরা বাড়িতে প্রবেশ করে সরাসরি তাকে হত্যা করার জন্য এসেছিল।

সাইফের রাজনৈতিক দল থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চারজন মুখোশধারী ‘কাপুরুষোচিত ও বিশ্বাসঘাতক’ উপায়ে বাড়িতে ঢুকে তাকে হত্যা করেছে। হামলার সময় তারা বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যার আগে সাইফের সঙ্গে হামলাকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।

অন্যদিকে, নিহতের বোন আলাদা তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি লিবিয়ার একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে জানান, আলজেরিয়া সীমান্তের কাছে সাইফ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর ত্রিপোলিভিত্তিক উচ্চ রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলের সাবেক প্রধান খালেদ আল-মিসরি হত্যার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদিও সাইফ আনুষ্ঠানিক কোনো পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন না, ২০১১ সালের পর লিবিয়ার রাজনীতিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু গাদ্দাফিপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন উত্তেজনা ও সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।

সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি ১৯৭২ সালে ত্রিপোলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং উচ্চশিক্ষিত হিসেবে লিবিয়ার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে নিজের ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর পিতা মুয়াম্মার আল গাদ্দাফি প্রায় চার দশক ধরে তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ার শাসন করলেও ২০১১ সালে গণঅভ্যুত্থান এবং ন্যাটোর সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন।

সাইফের হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জোরদার করেছে। ২০১১ সালের পর দেশটি নানা সশস্ত্র গোষ্ঠীর দখলে চলে যায় এবং তারা একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। সাইফ পালানোর চেষ্টা করেছিলেন প্রতিবেশী নাইজারে, তবে জিনতানের এক সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে ধরা পড়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাইফ আল-ইসলামের মৃত্যু লিবিয়ার রাজনীতিতে আরও অস্থিরতা এবং গাদ্দাফিপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নতুন উত্তেজনার কারণ হতে পারে। তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হতো। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, লিবিয়ার ভেতরের রাজনৈতিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে, কারণ সাইফের মতো প্রভাবশালী নেতা অনুপস্থিত থাকায় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে আরও সক্রিয় হবে।

মার্কিন ও ইউরোপীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাইফ আল-ইসলামের হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনী সম্ভাবনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে গাদ্দাফিপন্থি প্রভাবের ঘাটতি দেশটিতে ক্ষমতার ফাঁক তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার নতুন রূপ নিয়ে আসবে।

সাইফের হত্যার খবর আন্তর্জাতিকভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকরা এ ঘটনাকে লিবিয়ার দীর্ঘমেয়াদী অস্থিতিশীলতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে দেখছেন। হত্যাকাণ্ডটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরেও এসেছে, এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা হত্যার ন্যায়পরায়ণ তদন্ত দাবি করেছে।

সাইফ আল-ইসলামের রাজনৈতিক কর্মজীবন, উচ্চশিক্ষা, এবং লিবিয়ার রাজনীতিতে তার প্রভাব দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তাঁর মৃত্যু লিবিয়ার রাজনীতিতে নতুন একটি উত্তেজনার ঢেউ তৈরি করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে জটিল ও চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত