আইসিসি পাকিস্তানকে ভারতের ম্যাচে রাজি করাচ্ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ বার
আইসিসি পাকিস্তানকে ভারতের ম্যাচে রাজি করাচ্ছে

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি২০ বিশ্বকাপের উত্তেজনা শুরুর আগেই পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে ক্রিকেট দুনিয়ায় নতুন এক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার আগে পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আইসিসি এখন ‘পেছনের দরজা’ কূটনীতি চালাচ্ছে। গতকালই আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি কলম্বোর জুমবৃষ্টির কারণে বাতিল হয়েছে। তবু বিশ্বকাপের সূচি অনুযায়ী পাকিস্তান প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে মুখোমুখি হবে ৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি এখনও অনিশ্চিত।

এই অনিশ্চয়তার পেছনে রয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি ঘোষণার প্রেক্ষাপট। মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পাকিস্তান ভারতীয় দলের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি বর্জন করতে পারে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা বিবৃতি দেয়নি। কারণ আইসিসির সঙ্গে চুক্তি পাকিস্তান সরকারের নয়, বরং পিসিবির। তাই বোর্ড যদি নিশ্চিতভাবে জানায় না যে তারা ম্যাচটি খেলবে না, আইসিসি কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না এবং মিটিং ডাকার সুযোগও পাচ্ছে না।

আইসিসি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে একটি হুমকির সুরও প্রকাশ করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পিসিবি তাদের দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনা করবে। এর মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি, বিশ্বকাপ অনুন্নয়ন প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক শাস্তির সম্ভাবনা। খবর অনুযায়ী, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান, সিঙ্গাপুর ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এবং পেশায় আইনজীবী ইমরান খাজা পাকিস্তান বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। তাকে ‘শান্তিদূত’ হিসেবে পিসিবিকে সম্ভাব্য ক্ষতি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে সতর্ক করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আইসিসি জানিয়েছে, পাকিস্তান যদি ভারতের সঙ্গে ম্যাচটি বয়কট করে, তাহলে বিশ্বকাপের ব্রডকাস্ট সংস্থা ‘জিওস্টার’ তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। পাশাপাশি সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, আইসিসি পাকিস্তানের বার্ষিক অনুদান থেকে ৩৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার কেটে নিতে পারে। তবে পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও টিভি জানাচ্ছে, আইসিসি সরাসরি রাজস্ব কেটে নেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।

পূর্ববর্তী ঘটনাও এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক। আইসিসির সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানি মনে করিয়ে দিয়েছেন, গত বছর ভারতও তাদের সরকারের আপত্তি জানিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি পাকিস্তানে খেলতে যায়নি। তাই এই পরিস্থিতি ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির অধীনে বিবেচনা করা যেতে পারে। আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোর্স ম্যাজিউর হলো অংশগ্রহণ চুক্তির একটি ধারা, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত। তবে কোনো সরকারি আদেশ ছাড়া এটি প্রয়োগ করা কঠিন। পাকিস্তানকে অবশ্যই আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে জানিয়েই সরকারের লিখিত আদেশের কপি সরবরাহ করতে হবে।

আইসিসির এই পদক্ষেপ পাকিস্তানকে আর্থিক ও ক্রীড়া খাতে সম্ভাব্য ক্ষতির কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকারের অবস্থানও অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেশটির সরকার ক্রিকেট বোর্ডকে স্বাধীনভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে দেয় না। ফলে আইসিসি এখন বোর্ডকে রাজি করানোর জন্য ‘ডিপ্লোম্যাটিক’ আলোচনা চালাচ্ছে, যাতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি অনায়াসে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই অনিশ্চয়তা ক্রিকেটভক্তদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করেছে। পাকিস্তানের ক্রিকেটভক্তরা আশা করছেন বোর্ড যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এবং আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি এড়িয়ে খেলোয়াড়রা নিজেদের খেলার উপর মনোনিবেশ করতে পারবে। অন্যদিকে আইসিসিরও লক্ষ্য বিশ্বকাপের মর্যাদা রক্ষা করা এবং সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কূটনীতির একটি জটিল উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই সংঘাতের সমাধান কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর হবে, তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে স্পষ্ট হয়ে যাবে। পাকিস্তান-ভারত ম্যাচ না হলে, তা বিশ্বকাপের পুরো সূচিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইসিসি এবং পিসিবির মধ্যে চলমান আলোচনা, ফোর্স ম্যাজিউর ধারা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার হস্তক্ষেপ মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে যে পরিস্থিতি যতটা তীব্র মনে হলেও কূটনৈতিক ও আইনগত পদ্ধতির মাধ্যমে এটি সমাধানযোগ্য।

উল্লেখযোগ্য যে, ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি মাধ্যমও। পাকিস্তান-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং আইসিসির নিয়ম-নীতি মেনে বিশ্বকাপের আয়োজন, সকলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বোর্ড, খেলোয়াড়, প্রশাসন ও ভক্তরা এখন এই জটিল পরিস্থিতির সমাধান প্রত্যাশা করছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত