প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ইসরাইলের কারাগারে বন্দি থাকা ৫৪ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ গাজার কর্তৃপক্ষকে ফেরত দিয়েছে দখলদার দেশটি। বুধবার এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির মাধ্যমে এই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, লাশগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নিহতদের পরিবারগুলো নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে তাদের স্বজনদের লাশ শনাক্ত করতে পারবে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া ধাপে ধাপে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেও ইসরাইলের ধারাবাহিক লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে এই লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী, গাজা থেকে ইসরাইলের অতিরিক্ত সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর কথা রয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজার পুনর্গঠন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে আনুমানিক ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এটি গাজার দীর্ঘদিনের মানবিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কিন্তু গাজার বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে বুধবার ভোরে ইসরাইলি হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলায় আরও অনেক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। হামলাগুলোতে বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু, একটি বাড়ি এবং বেসামরিক মানুষের সমাবেশ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার স্ট্রিট-৫ সংলগ্ন এলাকায় গোলাবর্ষণে একজন প্যারামেডিকসহ দুজন নিহত হন এবং আরো ১২ জন আহত হন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই ধরনের হামলা মানবিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি স্থানীয় জনসংখ্যার ওপর চরম ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ বিষয়ে আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে বেসামরিক মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, লাশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে। তারা জানিয়েছেন, এ ধরণের হস্তান্তর মানবিক ও আইনি নীতির অংশ হিসেবে সংঘটিত হচ্ছে এবং এটি নিহত পরিবারগুলোকে তাদের প্রিয়জনের লাশ চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে।
ফিলিস্তিনি পক্ষের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ শুধু একটি শূন্যস্থান পূরণের মতো নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়নের নির্দেশও বহন করে। তবে তারা সতর্ক করেছেন, যদি ইসরাইল এই ধরনের হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তবে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং গাজার মানুষের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
এদিকে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এই ঘটনার ওপর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তা জানান, বন্দি ফিলিস্তিনিদের লাশ হস্তান্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, গাজার চলমান পরিস্থিতি ও বেসামরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ কমে যায়নি। তারা দাবি করেছেন, সমগ্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া প্রয়োজন।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, লাশ হস্তান্তর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা তাদের স্বজনদের চিহ্নিত করতে পারবে এবং গাজার মানুষদের ওপর কিছুটা মানসিক চাপ কমে যাবে। তবে তারা জোর দিয়েছেন, এই ধরণের হামলা এবং অসহনীয় পরিস্থিতি চলতে থাকলে, দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজ ব্যাহত হবে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিলিস্তিনের মানুষদের জীবনে আরও ভয় এবং অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আরও কূটনৈতিক চাপ এবং কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করা হচ্ছে, যাতে গাজার মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।