চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি জামায়াতের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি জামায়াতের

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, “৫৪ বছরের অপশাসন দেখতে দেখতে মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন ও মুক্তি চায়। পুরাতন বন্দোবস্ত আর দেখতে চায় না। জুলাই যোদ্ধারা রাস্তায় নেমে বলেছিলেন ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’। এর অর্থ হলো ন্যায়বিচার নেই। সেই ন্যায়বিচার আমরা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, ইনশাআল্লাহ। রাজার জন্য যে বিচার, সকলের জন্যও সেই বিচার।”

শফিকুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জকে দেশের আমের রাজধানী উল্লেখ করে এ অঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমকেন্দ্রিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। পদ্মা ও মহানন্দা নদীকেন্দ্রিক উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” হেলিকপ্টারে বেলা পৌনে একটার দিকে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুরাতন স্টেডিয়াম মাঠে অবতরণ করেন এবং কলেজ মাঠ পর্যন্ত হেঁটে আসেন। মঞ্চে উঠে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক গণজোয়ারের কথা উল্লেখ করে বলেন, “তিস্তাপার থেকে সমুদ্রপার, জাফলং থেকে সুন্দরবন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সব জায়গায় এখন মুক্তির, ন্যায়ের ও ইনসাফের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জও তার গর্বিত অংশীদার।”

নারীদের প্রতি তার বার্তাও ছিল স্পষ্ট ও মানবিক। তিনি বলেন, “মা-বোনদের অবদান বহুমাত্রিক। তাদের এই অবদানের প্রতিদান দেওয়া আমাদের পক্ষে সহজ নয়, ঋণ পরিশোধ করাও সম্ভব নয়। তবে আমরা চেষ্টা করব সর্বস্তরে তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে। এছাড়া, নারীদের নিরাপত্তা আমাদের অঙ্গীকার।”

জনসভায় তিনি জেলা জামায়াতের তিন আসনের প্রার্থীদের হাতে দলের নির্বাচনী প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের প্রার্থী মু. মিজানুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা জামায়াতের আমির আবুজার গিফারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম (সাদ্দাম), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি ইব্রাহিম হোসেন (রনি) প্রমুখ। তারা জামায়াতের নেতাদের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও স্থানীয় উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই মানুষের মধ্যে ন্যায় ও মানবিকতার জন্য সমর্থন দেখা যাচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চাঁপাইনবাবগঞ্জও এই পরিবর্তনের অংশীদার হয়ে উঠবে। জনসভায় উপস্থিত হাজারো মানুষ এই বার্তা গ্রহণ করে উল্লাস প্রকাশ করেন এবং নেতার প্রতিশ্রুতির প্রতি সমর্থন জানান।

তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। চাকুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নারীদের জন্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি প্রগতিশীল, মানবিক ও সমৃদ্ধশালী জেলা গড়ে উঠবে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন, শিল্প ও যোগাযোগব্যবস্থা, নারীদের অধিকার এবং মানুষের ন্যায়বিচারের প্রতি গুরুত্বের পাশাপাশি দেশের দীর্ঘকালীন অপশাসনের অবসান ঘটানোর অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয়। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে ন্যায় ও মানবিকতা সর্বত্র বিরাজ করবে। আমাদের প্রচেষ্টা হবে সাধারণ মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতে পারে।”

এই জনসভা স্থানীয় জনগণের মধ্যে আশার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের উন্নয়ন ও ন্যায়বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়। শফিকুর রহমানের ঘোষিত আমকেন্দ্রিক শিল্প প্রকল্প এবং নদীকেন্দ্রিক যোগাযোগব্যবস্থা স্থানীয় অর্থনীতি ও কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনসভায় শফিকুর রহমানের সমর্থকরা বলেন, নেতার এই বার্তা শুধু নির্বাচনী প্রচারণা নয়, বরং দেশের দীর্ঘদিনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি বহন করছে। দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ন্যায় ও মানবিকতার প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নের দৃঢ় অঙ্গীকারের জন্য সাধারণ মানুষ তাদের সমর্থন এবং বিশ্বাস প্রদান করছেন।

এ ধরনের প্রতিশ্রুতি ও কর্মপরিকল্পনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনগণ আশা করছে, নির্বাচনের পর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটির অর্থনীতি, শিল্প, যোগাযোগ এবং নারী নিরাপত্তা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন দেখা যাবে।

শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে মানুষের ন্যায়বিচার, মুক্তি, উন্নয়ন এবং নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার বিষয়গুলোকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। তাঁর এই অঙ্গীকার স্থানীয় জনগণ ও শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত